বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও কড়া নজরদারিতে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের বাইরে এক হাড়হিম করা ও অতর্কিত গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এক বন্দুকধারী সেখানে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের (US Secret Service) চৌকস দলও পাল্টা জবাব দেয়। সিক্রেট সার্ভিসের নিখুঁত কাউন্টার ফায়ারিংয়ে গুরুতর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ওই হামলাকারী বন্দুকধারী।
আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিজিটিএন (CGTN) মার্কিন এলিট সিকিউরিটি ফোর্স ‘সিক্রেট সার্ভিস’-এর অফিশিয়াল বিবৃতির বরাত দিয়ে এই আন্তর্জাতিক মেগা ব্রেকিং খবরটি নিশ্চিত করেছে। এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যার দিকে ওয়াশিংটন ডিসির ১৭ নম্বর স্ট্রিট এবং পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলের কাছে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।
ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করে নারকীয় হামলা
পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউতে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন শুটিংয়ের ঘটনায় মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস তাদের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সাধারণ পথচারীর বেশে হোয়াইট হাউসের বাইরের চত্বরে এসে ঘোরাঘুরি করছিল।
হঠাৎ করেই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি সাথে থাকা তার ব্যক্তিগত ট্রাভেল ব্যাগ থেকে একটি ভারী আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এবং হোয়াইট হাউস লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সেখানে দায়িত্বরত সিক্রেট সার্ভিসের বিশেষ পুলিশ বাহিনী (Secret Service Police) কালবিলম্ব না করে নিজেদের জীবন বাজি রেখে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং সরাসরি ওই বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে তাকে অচল করে দেয়।
হাসপাতালে হামলাকারীর মৃত্যু ও পথচারী আহত
সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পাল্টা গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়া ওই বন্দুকধারীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ওয়াশিংটনের একটি স্থানীয় বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তবে হামলাকারীর ছোঁড়া এলোপাথাড়ি বুলেটের আঘাতে সেখানে উপস্থিত এক দুর্ভাগ্যবান সাধারণ পথচারী (Bystander) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলছে। নিহত বন্দুকধারীর নাম ও জাতীয়তা বা সে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে জড়িত কিনা, তা তদন্তের স্বার্থে এখনও গোপন রেখেছে মার্কিন প্রশাসন।
ভেতরেই ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প: নিরাপত্তা জোরদার
হোয়াইট হাউসের ঠিক বাইরে এত বড় গুলিবর্ষণের ঘটনার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ভবনের ভেতরেই তাঁর ওভাল অফিসে অবস্থান করছিলেন।
তবে সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, হামলার সাথে সাথেই হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ স্বয়ংক্রিয় লকডাউন ও কড়া প্রতিরোধ ব্যবস্থা চালু হয়ে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা অন্য কোনো সুরক্ষিত ব্যক্তি (Protectees) কিংবা হোয়াইট হাউসের ভেতরের স্বাভাবিক প্রশাসনিক অপারেশনের ওপর কোনো ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ অক্ষত ও সুরক্ষিত আছেন। এফবিআই (FBI) এবং সিক্রেট সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থল কর্ডন করে এই হামলার মূল মোটিভ ও নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে গভীর তদন্ত শুরু করেছে।

