রক্তাক্ত কোয়েটা! পাকিস্তানে সেনাবহরের ট্রেনে আত্মঘাতী হামলা, বিস্ফোরণে উড়ে গেল বগি, নিহত অন্তত ২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অস্থির প্রদেশ বেলুচিস্তানে ফের এক বড়সড় ও রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঈদের আনন্দঘন ছুটির আমেজের মাঝেই দেশটির সেনাবাহিনীর জওয়ানদের বহনকারী একটি বিশেষ ট্রেনে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ও তৎক্ষণাৎ ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছেন অন্তত ২৪ জন। নিহতদের সিংহভাগই পাকিস্তানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর সদস্য এবং তাদের সাথে থাকা পরিবারের নিরীহ স্বজনেরা।

আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) বিকেলে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘জিও নিউজ’ (Geo News) দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে সূত্রের বরাত দিয়ে এই আন্তর্জাতিক মেগা ব্রেকিং সংবাদটি নিশ্চিত করেছে। এর আগে কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে চমন পটাক জংশনের কাছে এই নারকীয় ও নৃশংস হামলাটি চালানো হয়।

বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দিয়ে মরণঘাতী ধাক্কা

স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে ট্রেনটি কোয়েটা স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই চমন পটাক জংশন নামক একটি লেভেল ক্রসিং এলাকা পার হচ্ছিল। ঠিক তখনই রেললাইনের পাশে ওত পেতে থাকা এক আত্মঘাতী সন্ত্রাসী বিস্ফোরকে ঠাসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি নিয়ে সরাসরি চলন্ত ট্রেনের বগিতে এসে তীব্র গতিতে ধাক্কা মারে।

ধাক্কা লাগার সাথে সাথেই এক বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ট্রেনের অন্তত দুটি যাত্রীবাহী বগিতে দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ট্রেনের বগির পাশাপাশি রেললাইনের সংলগ্ন পাশে পার্কিং করে রাখা প্রায় ১০টি সাধারণ ব্যক্তিগত গাড়িও মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনায় আরও অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়েছেন।

ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথেই চিরবিদায়

নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ট্রেনে থাকা সেনাসদস্যরা পবিত্র আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটি কাটাতে নিজ নিজ পরিবারের কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফিরে যাচ্ছিলেন। অনেকের সাথে তাদের স্ত্রী ও কোমলমতি সন্তানেরাও ছিলেন। কিন্তু কুখ্যাত সন্ত্রাসীদের এই মরণঘাতী আত্মঘাতী ছক নিমেষেই ঈদের খুশিকে এক নিদারুণ কান্নায় রূপ দিল।

বিস্ফোরণের খবর পাওয়ামাত্রই পাকিস্তানের বিশেষ কমান্ডো বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিসের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বগি কেটে পোড়া লাশ ও আহতদের উদ্ধার করে কোয়েটার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (CMH) নিয়ে যায়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের অনেকেরই শরীর অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

হামলার দায় স্বীকার করল বেলুচ লিবারেশন আর্মি (BLA)

এদিকে এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কর্তৃক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বেলুচ লিবারেশন আর্মি’ (BLA) গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে এই হামলার পুুরো দায় স্বীকার করেছে।

বিএলএ-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের একজন বিশেষ আত্মঘাতী স্কোয়াড সদস্য (মজিদ ব্রিগেড) বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে সফলভাবে পাকিস্তানি সেনাবহরের ট্রেনে আত্মঘাতী হামলা সম্পন্ন করেছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও সেনাবাহিনী এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বেলুচিস্তান জুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে এবং সন্ত্রাসীদের খোঁজে পুরো কোয়েটা শহর ব্লক করে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

সর্বশেষ নিউজ