দেশের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত, আহত ৪৩

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

দেশের কয়েকটি স্থানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অšত্মত ৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো ৪৩ জন। আমাদের নেত্রকোণা প্রতিনিধি জানান, গতকাল সেখানে বাস চাপায় অটোরিকশায় থাকা মা ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরম্নতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চল্লিশা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নেত্রকোণা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- নূরজাহান বেগম (৪০), তার বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৬) ও ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১০)। নিহতরা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলি কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী বাবর মিয়া জানান, ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোণাগামী একটি বাস চল্লিশা বাইপাস এলাকায় আসার পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সরাসরি চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে মুছড়ে যায় এবং অটোরিকশায় থাকা ছয়জন যাত্রীর মধ্যে তিনজন নিহত হন। বাকি তিনজন গুরম্নতর আহত হয়ে নেত্রকোণা সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মাজহারম্নল আমিন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকে গুরম্নতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে তাদের পরীক্ষা শেষে আমরা আরো দুজনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হই। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমাদের সিলেট প্রতিনিধি জানান, জেলার ওসমানীনগরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসকে পেছন থেকে ঢাকাগামী অপর একটি বাস ধাক্কা দিলে, ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। গতকাল রোববার উপজেলার তাজপুর বাজারের পূর্ব পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- যাত্রীবাহী ‘যাতায়াত’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল (৩০) ও তার হেলপার ইমন (২০)। সোহেল নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার শাহী প্রতাপ গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় ‘যাতায়াত’ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৬০২) সড়কের পাশে সিলেটমুখী অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একইদিকে যাওয়ার পথে ‘সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য’ পরিবহনের দ্রম্নতগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-০২৪১) পেছন থেকে এসে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান বাসের চালক সোহেল ও হেলপার ইমন।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় মৃতদের লাশ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার হাজীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় বিল্লাল হোসেন (৪৮) নামে হাসপাতালের এক দারোয়ানের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের হাজীগঞ্জ টোরাগড় মনির ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল হোসেন পার্শ্ববর্তী শাহরা¯িত্ম উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের মুড়াগাঁও গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির সাহেব আলী ভুঁইয়ার পুত্র। তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের ডক্টরস্ সিটি স্ক্যান হাসপাতালের দারোয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজন সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জানান, সকালে কুমিল্লা থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিলো আইদি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। ঠিক তার পেছনে ছিলো বোগদাদ পরিবহনের আরেকটি বাস। বোগদাদ বাসটি আইদি বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আইদি পরিবহনের বাসটি বোগদাদকে অতিক্রম করার সুযোগ না দিলে বোগদাদ বাসটি রং সাইডে প্রবেশ করে। এ সময় সড়কের পাশে থাকা দারোয়ান বিল্লাল হোসেনকে চাপা দেয় বোগদাদ। এতে তিনি মাথায় গুরম্নতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হ¯ত্মাšত্মর করা হবে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান,জেলার মিরপুর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সেনাসদস্যবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে জিয়াউল ইসলাম (৪৫) নামের একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় সেনাসদস্যসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত জিয়াউল ইসলাম হিমেল পরিবহনের যাত্রী ছিলেন তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। সে ব্র্যাক ব্যাংকে চাকরি করেন।
গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার তালবাড়ীয়া এলাকার কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিমেল পরিবহনের একটি বাস খুলনা থেকে জামালপুর যাচ্ছিল। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষ বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনাসদস্যদের নিয়ে আরেকটি বাস খুলনায় যাওয়ার পথে উপজেলার তালবাড়ীয়া এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে দুটি বাসই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জিয়াউল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আল ওবায়েদ বলেন, ঘটনা পরপরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দুই বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বাসটি ৪০-৪২ জন সেনাসদস্য ছিলেন। তাঁরা সবাই সেনাবাহিনীতে নতুন রিক্রুট। কম-বেশি অনেকেই আহত হয়েছেন।

সর্বশেষ নিউজ