ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলায়, জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদেরকে পুলিশের গুলি চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা এবং লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গ্রাহকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করছি।

সোমবার (১ জুন) এক বিবৃতিতে এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আজ সকালে ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’- এর ব্যানার- ফেস্টুন নিয়ে সাধারণ গ্রাহকেরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থেই তারা এ আন্দোলন করছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পুলিশ কোনো উসকানি ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিরীহ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে বহু আমানতকারীকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের এ অযাচিত বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়ন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। বিগত দিনে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিংখাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। গ্রাহকরা মনে করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারও ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে পড়বে। নিজের কষ্টের জমানো টাকার নিরাপত্তা চাওয়া এবং ব্যাংকের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

বিবৃতিতে সেক্রেটারি জেনারেল জোর দিয়ে বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ব্যাংক জনগণের আমানতে চলে। গ্রাহকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কোনো ব্যাংক টিকতে পারে না। সাধারণ গ্রাহকদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশের গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

অবিলম্বে অবৈধ ও দলীয়ভাবে নিয়োগকৃত চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলপূর্বক আমানতকারী ও গ্রাহকদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা প্রশমন এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিটি পাঠান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার-সহকারী মুজিবুল আলম।

সর্বশেষ নিউজ