একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস, জাতীয় বিজয় দিবস এবং ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কিত ভূমিকা পালন করছে বলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার কড়া সমালোচনা করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হয় এবং আমরা রাজপথে নামি, তবে মাত্র দেশকে রাজাকার মুক্ত করা সম্ভব হবে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে।
গতকাল বুধবার (৩ জুন ২০২৬) দুপুরে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার নান্দিয়াপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর’ পরিদর্শন শেষে চাটখিল উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
৭১ ও ২৪-এর একক কৃতিত্ব নেওয়ার রাজনীতি এবং প্রশ্নবিদ্ধ তালিকা
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন দেশের দুটি বড় রাজনৈতিক শক্তির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আমাদের জাতীয় ইতিহাসের ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব যেমন অন্যায়ভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেছে একটি দল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব সম্পূর্ণ নিজের পকেটে পুরতে চেয়েছে আরেকটি দল। এই দুই দলের মানসিকতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।”
তিনি বিগত সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একক কৃতিত্ব দাবিদার দলটি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় দেশের ক্ষমতায় আকড়ে থেকে সম্পূর্ণ অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিজেদের মতো করে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছে। দলীয়করণ ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা এই তালিকাটি আজ গোটা জাতির কাছে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।”
স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির বিরুদ্ধে রাজপথে নামার ডাক
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “অন্যদিকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের একক কৃতিত্ব নিতে যাওয়া এই নব্য দলটি দেশের চিরন্তন আবেগ স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত ও আপত্তিকর ভূমিকা পালন করে আসছে। এরা দেশের শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশকে কোনোভাবেই অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না। যদি প্রয়োজন হয়, তবে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় ২৪ ঘণ্টার নোটিশে রাজপথে নেমে সব ধরণের দেশবিরোধী ও অপশক্তিকে চিরতরে নির্মূল করে দেশকে পুরোপুরি রাজাকার মুক্ত করা হবে।
চাটখিলে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংবর্ধনা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
চাটখিল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানটি চাটখিলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার (এসপি সার্কেল) মনিষ দাস, চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা পরান চৌধুরী, চাটখিল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, চাটখিল পৌরসভার সাবেক সভাপতি দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান রানা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন টিপু ও আলাউদ্দিন ভূঁইয়াসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

