মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় নিজের ৯৫ বছর বয়সী জন্মদাত্রী মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী মেয়ে রোকেয়া বেগমের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর ঘাতক মেয়ে নিজেই আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ডেকে মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমকে আটক করেছে। নিহত বৃদ্ধা রেজিয়া বেগম মধ্য ধুসুরিয়া গ্রামের মৃত সোবহান মিয়ার স্ত্রী। অন্যদিকে, আটক রোকেয়া সদর উপজেলার হাটিপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের ভেতর থাকা দা দিয়ে রোকেয়া তার মা রেজিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি নির্বিকারভাবে তার বড় ভাইয়ের ছেলে (ভাতিজা) রাসেলকে ডেকে জানান যে তার দাদি মারা গেছেন। খবর পেয়ে রাসেল ও অন্যান্য প্রতিবেশীরা ঘরে ছুটে গেলে খাটের ওপর রেজিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে রোকেয়াকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। বেলা ১২টার দিকে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মেয়েকে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি নিহত বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে মেয়েকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

