মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানা এলাকার নিখোঁজ তিন কিশোরকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন জোরারগঞ্জ থানা এলাকার তিন কিশোর একসঙ্গে নিজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে থানায় যোগাযোগ করলে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন জোরারগঞ্জ থানার এসআই (নিঃ) মো. জিশান আহম্মেদ, পিপিএম-সেবা। তদন্তের একপর্যায়ে ১০ জুন রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে ওই তিন কিশোরকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া কিশোররা হলো—
-
মোরছালিন (১৪): পিতা- মফিজ উদ্দিন, মাতা- জরিনা বেগম।
-
মেহেরাজ হোসাইন (১৪): পিতা- মো. সাদেক হোসেন, মাতা- রোজিনা আক্তার। (এই দুজনেরই বাড়ি ওসমানপুর ইউনিয়নের কলি মুহুরী বাড়িতে)।
-
মো. রাইসুল (১৪): পিতা- আইয়ুব খান, মিরসরাই সদর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায়, পারিবারিক মানসিক চাপের কারণে তারা বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া কিশোর মেহেরাজ হোসাইনের মা রোজিনা আক্তার বলেন, “ছেলে হারানোর পর পাগলের মতো সকল আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করি। কোথাও সন্ধান না পেয়ে জোরারগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করি। পুলিশের সহায়তায় আমরা আমাদের হারানো সন্তানদের ফিরে পেয়ে অত্যন্ত খুশি। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।”
উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বদানকারী এসআই (নিঃ) মো. জিশান আহম্মেদ জানান, “নিখোঁজের খবর পাওয়ার পরপরই আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান শুরু করি। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে তিন কিশোরকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।”
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, “কিশোরদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানাই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, এলাকায় চুরি, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে পুলিশ সবসময় তৎপর।
#এম_আর

