প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে রাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা! ছাত্রাবাসের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সংলগ্ন একটি ছাত্রাবাস থেকে এক শিক্ষার্থীর অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও রহস্যজনক ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে. নিজের প্রেমিকাকে স্মার্টফোনে ভিডিও কলে যুক্ত রেখেই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে [cite: “তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।”, “মেসের কেয়ারটেকারকে জানায়। এরপর তারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।”]. রাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করার এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে আজ ১০ জুন (বুধবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকার ‘আয়েশা টাওয়ার’ নামের একটি ছাত্রাবাসে [cite: “রাবি, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬”, “বুধবার (১০ জুন) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকার আয়েশা টাওয়ার ছাত্রাবাস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”].

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন. নিহত মো. মাহফুজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের একজন নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন [cite: “নিহত মাহফুজুর রহমানবিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।”]. তাঁর স্থায়ী বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর এলাকায়.

ভিডিও কলে থাকতেই চরম সিদ্ধান্ত, প্রেমিকার ফোনেও বাঁচানো গেল না প্রাণ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, মেস কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে মাহফুজুর রহমান নিজের কক্ষে থাকা অবস্থায় তাঁর প্রেমিকার সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন. ককোপথ বা কোনো কারণে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান [cite: “সে কলে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা শুরু করলে”, “তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।”]. বিষয়টি ভিডিও কলে তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পেয়ে তাঁর প্রেমিকা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কালবিলম্ব না করে মুঠোফোনে ছাত্রাবাসের ম্যানেজারকে বিষয়টি অবহিত করেন.

খবর পেয়েই মেসের ম্যানেজার এবং আশেপাশের কক্ষের বেশ কয়েকজন সহপাঠী ও শিক্ষার্থী দ্রুত মাহফুজের রুমের সামনে ছুটে যান. ভেতর থেকে দরজা লক করা থাকায় তারা কোনো সাড়া না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন. তবে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়; রুমে ঢুকে তারা মাহফুজুরকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান.

মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ শিক্ষকেরা

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির ভূঁইয়া. তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “এমন একটি বেদনাদায়ক ঘটনা শুনেই আমরা কয়েকজন শিক্ষক এখানে দ্রুত ছুটে এসেছি. কোনোভাবেই আমরা এটা মাথায় নিতে বা ব্যাখ্যা করতে পারছি না যে, মাহফুজের মতো এমন একটা মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের শিক্ষার্থী এই ধরনের চরম ও আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে পারে. আমরা এটা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি.”

তিনি আরও যোগ করেন, “তার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম, তারাও এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতো না বা আঁচ করতে পারেনি. এই চরম দুঃখজনক জায়গা থেকে আমার মনে হয়, শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আত্মিক সম্পর্কটা আরও বেশি জোরদার ও ভালো হওয়া উচিত, যেন শিক্ষার্থীরা তাদের যেকোনো মানসিক বা ব্যক্তিগত সমস্যার কথাগুলো দ্বিধাহীনভাবে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে [cite: ‘এ জায়গা থেকে মনে হয় শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কটা আরও ভালো হওয়া উচিত যেন তাদের সমস্যার কথাগুলো শেয়ার করতে পারে।’].”

সুরতহালে মেলেনি আঘাতের চিহ্ন কিংবা সুইসাইড নোট

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, “আমরা বেলা আড়াইটার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি জানতে পারি. এরপর দ্রুত স্থানীয় থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি. প্রাথমিকভাবে পুলিশের করা সুরতহালের মাধ্যমে জানা গেছে যে, ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে [cite: “প্রাথমিকভাবে পুলিশের সুরতহালের মাধ্যমে জানা গেছে যে সে শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।”]. তবে তার শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন বা রুমের কোথাও কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি.”

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে স্পষ্ট আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে. তবে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে. পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন. এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সর্বশেষ নিউজ