সিলেটে অ্যাপোলো ও গ্যাস্ট্রোলিভারসহ ৮ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিককে জরিমানা

সিলেট কার্যালয়
spot_img
spot_img

সিলেট মহানগরীসহ পুরো সিলেট বিভাগের ৪টি জেলায় একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। যথাযথ পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা, ছাড়পত্র নবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া শর্তাবলি চরমভাবে লঙ্ঘন করার অপরাধে সিলেটের নামী গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল ও নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিকসহ মোট ৮টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বড় অংকের জরিমানা করা হয়েছে।

গত সোমবার (১৫ জুন) সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট উইং বিভিন্ন স্পটে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরিমানার অর্থ নগদ আদায় করে। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০) এর ৭ ধারার আলোকে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

শর্তভঙ্গের দায়ে জরিমানা: তালিকায় সিলেটের নামী গ্যাস্ট্রোলিভার ও লাইফ লাইন

সিলেট বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর শাহজালাল উপশহরে অবস্থিত ‘সিলেট গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল’ দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই তাদের চিকিৎসাবর্জ্য ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এই অপরাধে হাসপাতালটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া, নগরীর ঐতিহ্যবাহী মিরবক্সটুলা এলাকার নয়াসড়কে অবস্থিত ‘লাইফ লাইন ব্লাড ব্যাংক’ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ছাড়পত্র নবায়ন না করে কার্যক্রম চালানোয় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ‘মেডিসিটি বিয়ানীবাজার’-কেও একই ধারায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পরিবেশগত ছাড়পত্র লঙ্ঘন ও জরিমানার শিকার হওয়া ৮টি প্রতিষ্ঠান:

প্রতিষ্ঠানের নাম ও জেলা জরিমানার কারণ আদায়কৃত জরিমানার পরিমাণ পরিবেশ আইন অনুযায়ী গৃহীত পদক্ষেপ
সিলেট গ্যাস্ট্রোলিভার হসপিটাল (সিলেট) পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকা ও শর্তভঙ্গ। ২০,০০০ টাকা বিধিমালা অনুযায়ী মুচলেকা গ্রহণ।
লাইফ লাইন ব্লাড ব্যাংক (সিলেট) ছাড়পত্র দীর্ঘদিন নবায়ন না করা। ৫,০০০ টাকা দ্রুত নবায়নের জন্য কড়া আলটিমেটাম।
মেডিসিটি বিয়ানীবাজার (সিলেট) বিধি লঙ্ঘন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ত্রুটি। ৫,০০০ টাকা তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড আদায়।
মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার (হবিগঞ্জ) বায়ো-মেডিকেল বর্জ্য আইন অমান্য করা। ২০,০০০ টাকা পরিবেশ ছাড়পত্র সংক্রান্ত নোটিশ প্রদান।
সিটি আই কেয়ার হসপিটাল (হবিগঞ্জ) শর্ত অমান্য ও অব্যবস্থাপনা। ১০,০০০ টাকা দ্রুত বর্জ্য শোধনাগার তৈরির নির্দেশ।
নোভা মাল্টিকেয়ার ডায়াগনস্টিক (মৌলভীবাজার) ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতা। ৮,০০০ টাকা আইন লঙ্ঘন করায় অর্থদণ্ড।
নিরাময় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক (মৌলভীবাজার) ছাড়পত্র নবায়ন না করা। ৬,০০০ টাকা তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায়।
নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক (মৌলভীবাজার) শর্তভঙ্গ ও বর্জ্য ফেলার ত্রুটি। ৫,০০০ টাকা সংশোধনমূলক নোটিশ ও জরিমানা।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও জরিমানা: তালিকায় নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সাঁড়াশি অভিযান থেকে ছাড় পায়নি মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের একাধিক বেসরকারি চিকিৎসা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ‘নিরাময় ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার’কে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না রাখায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল রোডের ‘নোভা মাল্টিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’কে ৮ হাজার টাকা এবং ‘নিউ অ্যাপোলো ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক’কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। হবিগঞ্জ সদর এলাকার বাইপাস রোডের ‘সিটি আই কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ফ্যাকো সেন্টার’কে ১০ হাজার টাকা এবং অনন্তপুর কোরেশনগর এলাকার ‘আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার’কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।

গ্র্যান্ড সুলতান রিসোর্ট ও ম্যাটাডোর প্লাস্টিককেও ভারী জরিমানা

কেবল চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানই নয়, পরিবেশের ছাড়পত্র সংক্রান্ত নিয়মভঙ্গ ও বর্জ্য নিষ্কাশনে চরম অনিয়ম ধরা পড়ায় সিলেটের অন্যান্য মেগা কমার্শিয়াল প্রজেক্টের ওপরেও বড় জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রাধানগর এলাকার পাঁচ তারকা মানের ‘গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ’কে প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র শর্তাবলি অমান্য করার কারণে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ইসবপুর এলাকার ‘হেলদি চয়েস ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড’কে ছাড়পত্র নবায়ন না করার কারণে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর এলাকার বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘স্টার পোরসেলিন লিমিটেড’কে ছাড়পত্র শর্তভঙ্গের দায়ে ২ লাখ টাকা এবং বিখ্যাত ‘ম্যাটাডোর প্লাস্টিক অ্যান্ড রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’কে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কেমিক্যাল বর্জ্য ফেলার দায়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সুনামগঞ্জের ছাতক এলাকার চরেরবন নামক স্থানে লাইসেন্স ও অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়া অবৈধভাবে পরিচালিত একটি স’মিল বা কাঠের মিলকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেটের জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এই ধরণের কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ নিউজ