জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, আইনগতভাবে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই। সুতরাং, সংসদে থাকা কোনো সদস্যই ঋণখেলাপি নন, বড়জোর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন।
সংসদে বাদানুবাদ: সরকারি ও বিরোধী দল
সংসদ অধিবেশনে বিএনপি দলীয় এমপি ফজলুল হক মিলন সংসদ সদস্যদের মর্যাদা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত বক্তব্য ‘এক্সপাঞ্জ’ করার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মনে এই সংসদ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করা সংসদ সদস্যদের অধিকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ব্যাখ্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিতর্কের অবসান ঘটাতে বলেন:
-
আইনের বাধ্যবাধকতা: আরপিও (RPO) ও নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত কোনো ঋণখেলাপি নমিনেশন পেতে পারেন না।
-
মামলা নিষ্পত্তি: যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, সেগুলো সুপ্রিম কোর্ট বা উচ্চ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তারা প্রার্থী হয়েছেন। তাই বর্তমানে তারা লেজিটিমেট বা বৈধ প্রার্থী।
-
‘ডিফেমেটরি’ মন্তব্য: মন্ত্রী মনে করেন, সংসদে সদস্যদের ঋণখেলাপি বলাটা এক ধরনের সম্মানহানিকর (defamatory) মন্তব্য, যা এক্সপাঞ্জ করা প্রয়োজন।
পরিশেষে, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচার-বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

