বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কারো হস্তক্ষেপ মানবে না চীন, তিস্তা প্রকল্পে দৃঢ় সমর্থনের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক টেবিল
spot_img
spot_img

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি অভূতপূর্ব এবং শক্তিশালী সমর্থন ব্যক্ত করেছে পরাশক্তি চীন। বেইজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিষয়ে বাইরের কোনো দেশের বা তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই বরদাশত বা মেনে নেবে না চীন। একই সাথে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা তিস্তা প্রকল্পে বেইজিংয়ের দেওয়া আগের সব প্রতিশ্রুতি ও অবস্থান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে ঢাকায় আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে চীনের এই দৃঢ় ও কৌশলগত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

তিস্তা প্রকল্পে সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় তিস্তা প্রকল্প অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ইস্যু। এ বিষয়ে চীনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা তিস্তা প্রকল্পে চীনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। চীন তাদের সর্বোচ্চ আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্যের মধ্য থেকে এই মেগা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবে।”

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিস্তা নদী নিয়ে আঞ্চলিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনা রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

🤝 কৌশলগত অংশীদারিত্ব: চীনা রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর অত্যন্ত সফল এবং ফলপ্রসূ হয়েছে। এই শীর্ষ সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় (Strategic Level) পৌঁছেছে।

আঞ্চলিক সংযোগ ও নতুন অর্থনৈতিক করিডর

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই নয়, বরং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন বিকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীন এশীয় অঞ্চলে সংযোগ (Regional Connectivity) জোরদার করতে বেশ কিছু নতুন রোডম্যাপ ও বিকল্প নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।

বেইজিংয়ের কূটনৈতিক বার্তার মূল ৩টি সমীকরণ

কূটনীতির খাত (Strategic Sectors) চীনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান (China’s Stance) বাংলাদেশের জন্য ভূরাজনৈতিক লাভ (Geopolitical Gain)
১. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি কোনো বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বা মাতব্বরি সহ্য করা হবে না। অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় বৈশ্বিক পরাশক্তির ব্যাকআপ।
২. তিস্তা মহাপরিকল্পনা আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে বেইজিংয়ের অবস্থান অপরিবর্তিত। ভারতের আপত্তির মুখেও তিস্তা অঞ্চলের পানির সংকট সমাধানে মেগা প্রজেক্টের আশা।
৩. আঞ্চলিক সংযোগ চীন-বাংলাদেশ সরাসরি লিংক এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি।

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে অন্য কারো হস্তক্ষেপ না মানার ঘোষণা দিয়ে চীন মূলত ওয়াশিংটন বা দিল্লির মতো অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীজনদের একটি পরোক্ষ কিন্তু কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিল। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের পর এই ধরনের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, বর্তমান ঢাকার নতুন সরকারের সাথে বেইজিংয়ের বোঝাপড়া অত্যন্ত সুদৃঢ়। তিস্তা প্রকল্পে চীনের অনড় অবস্থান এবং মিয়ানমারকে যুক্ত করে নতুন অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের জন্য এক বিশাল মাইলফলক হতে পারে।

সর্বশেষ নিউজ