কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের গান ‘মেঘ’ প্রকাশের পর থেকেই সংগীতায়োজক শায়ান চৌধুরী অর্ণবকে নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার ভাব ও সুরের উপস্থাপনা নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ তীব্র সমালোচনা করছেন। দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর অবশেষে এই পরিস্থিতিতে অর্ণবের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার স্ত্রী ও সংগীতশিল্পী সুনিধি নায়েক।
সুনিধি নায়েকের আবেগী পোস্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে সুনিধি অর্ণবের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “একজন শিল্পীও একজন মানুষ। তাঁর প্রতিটি সৃষ্টি যে সবার ভালো লাগবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কাজের সমালোচনা করুন, কিন্তু শিল্পীকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, যে অর্ণব আমাদের ‘মাঝে মাঝে’, ‘নয়নও তোমারে’ বা ‘মেঘ বলেছে যাব’র মতো কালজয়ী সব উপহার দিয়েছেন, আজকের এই ‘মেঘ’ গানটি অপছন্দ হতেই পারে, কিন্তু সেই অধিকার কাউকে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অনুমতি দেয় না।
শিল্পীর ব্যর্থতা ও মানুষের সীমাবদ্ধতা
সুনিধি স্মরণ করিয়ে দেন যে, শিল্পী যন্ত্র নন, মানুষ। তার ভাষায়, “তিনি মানুষ, যন্ত্র নন। একজন শিল্পী কখনোই শুধু তাঁর সেরা কাজ দিয়ে বেঁচে থাকেন না; তাঁর ব্যর্থতাগুলোও তাঁর যাত্রারই অংশ।” সুনিধি মনে করেন, আমরা যদি প্রতিটি অপছন্দের কাজের জন্য শিল্পীকে অপমান বা বিদ্রূপ করি, তবে একদিন তারা নতুন কিছু সৃষ্টি করার সাহসই হারিয়ে ফেলবেন।
শিল্পের খাতিরে সমালোচনার ভাষা হোক মার্জিত
সবশেষে সুনিধি একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—আমরাই যখন কোনো শিল্পীকে নীরব হতে বাধ্য করি, তখন পরে আবার কেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলি ‘শিল্পীটা হারিয়ে গেল কেন’? তার আক্ষেপ, শিল্পীরা হারান না, বরং দর্শকদের নির্মমতাই তাদের হারিয়ে দেয়। সমালোচনা হোক সুস্থ ও মার্জিত—কারণ শিল্পী কোনো দেবতা নন, তাদেরও অনুভূতি ও কষ্টের জায়গা আছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন মুক্তি পাওয়া ‘মেঘ’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মোহাম্মদ শোয়েব, মাশা ইসলাম এবং কলকাতার মৌসুমি দত্ত।

