গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নৌকার ব্যজ পড়ে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন টেবিল ঘড়িতে। এমনকি তারা নিজেদের প্রার্থীর জয়ের জন্য ভোটকেন্দ্র এবং এর আশেপাশে অবস্থান নেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা এমন অনেককে দেখেছি, গলায় নৌকার ব্যজ। মুখ মলিন। ভোট দিয়ে বের হন হাসিমুখে। কারণ তাঁরা নিজেরাই জানান। বলেছেন, বাধ্য হয়ে নৌকার ব্যজ পড়লেও জাহাঙ্গীরকে হয়রানি করায় আমরা ভোট দিয়েছি তার মাকে। জাহাঙ্গীর নিজেও দলের লোক হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা। যদিও মেয়র পদ হারানোয় পাশাপাশি দলীয় পদও হারান জাহাঙ্গীর আলম।
কেউ কেউ বলছেন,ধরপাকড় এড়াতে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের রোষানল থেকে বাঁচতে জাহাঙ্গীর আলম সমর্থকরা সরকার দলীয় প্রার্থীর ব্যাজ গলায় ধারন করেছিলেন।
জায়েদা খাতুন সমর্থকরা বলেছেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকেই তাদের ওপর জুলুম নির্যাতন শুরু হয়। ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার পর সেটি আরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পরেও জাহাঙ্গীর সমর্থক হওয়ায় অনেক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। অনেকের বাড়িঘরে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। অনেকে দিনের পর দিন বাড়িছাড়া ছিলেন। এমনকি অনেককে গ্রেপ্তার করে গোপনে অন্য জেলার কারাগারে আটক রাখা হয়েছে। এতে করে কষ্ট পেয়েছেন জাহাঙ্গীর কর্মী সমর্থকরা। ভোটকেন্দ্রে তারা মন না চাইলেও নৌকার ব্যাজ পড়ে জায়েদা খাতুনকে ভোট দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তারা মার্কা দেখেননি।
ভোটের দিন বেশিরভাগ কেন্দ্রে জায়েদা খাতুনের কর্মীদের মাঠে পাওয়া যায়নি। এমনকি নগরীর কোথাও জায়েদা খাতুনের পোস্টারও দেখা যায়নি। নীরবে তারা বিপুল পরিমাণ ভোট জায়েদাকে দিয়েছেন।
সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (কেন্দ্র-২) কেন্দ্র, সালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সালনা নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজসহ (কেন্দ্র-১) অন্তত ৫০টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানান, তাদের কেন্দ্রে জায়েদা খাতুনের পোলিং এজেন্ট আসেননি।এই কেন্দ্রগুলোতে নেৌকার ব্যাজ পড়ে জায়েদা খাতুনের লোকজন ভোট পাহারা দিয়েছেন।

