মৌলভীবাজারে বৃষ্টির অভাবে ভেস্তে যেতে পারে আউশ ফলন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
spot_img
spot_img

জেলার কুলাউড়া উপজেলার কৃষক হামদু মিয়ার কপালে দুশ্চিন্তার ভাজ। জানালেন ভালো ফলনের জন্য আউশ আবাদ করতে হয় ১৫-২০ জুনের মধ্য। অথচ আজ ৭ জুন। মাঠের পর মাঠ এখনো গোচারণ ভূমি আর ধূ ধূ বালুচর। পানির ছিটেফোঁটাও নেই। ফলে থমকে আছে চলতি মৌসুমের আউশ আবাদ। আবাদি জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জেলার ৭ উপজেলায় ২৪ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে সার বীজ দিয়েছে। কিন্তু সবই বৃথা!

মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন। বুধবার সকালে সেখানে গেলে দেখা যায়, একরের পর একর জমি খালি পড়ে আছে। পানির ছিটেফোঁটা নেই। এসব মাঠে এখন গরু মহিষ চরাণো হচ্ছে।

পাশের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কাউকাপন গ্রামের কৃষক সজই মিয়া জানান, অতীতে আমরা বৈশাখ মাস শুরু হলেই আউশের বীজতলা তৈরি করেছি। আর জৈষ্ঠ্য মাস এলেই ধানের ভারা রোপণ শুরু করেছি। শ্রাবণ মাসে আউশধান কাটা শুরু করে পুরো ভাদ্র মাসে ধান সংগ্রহ শেষ করেছি। কিন্তু চলতি মৌসুমে এখনো কোনো চারা রোপণ করতে পারিনি।

এ বিষয়ে হতাশার কথা জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলার উপ-পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদও।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যমাত্রা বাস্থবায়ন করতে ৭টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা এলাকার ২৪ হাজার কৃষককে বিনামুল্যে ৫ কেজি করে বীজ এবং ২০ কেজি করে সার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ২ হাজার হেক্টর জমিতেও আউশধান লাগানো যায়নি।

উপ-পরিচালক বলেন, চলতি সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাত না হলেও আউশ আবাদের পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে যেতে পারে।

(এইদিনএইসময়/০৭জুন/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ