‘বাঙালির সম্মান ও স্বীকৃতিই বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সারকথা’

ইউরোপ ব্যুরো
spot_img
spot_img

সাধারণ বাঙালির হাজার বছরের অনর্জিত সম্মান আদায় ও একটি গর্বিত জাতি হিসেবে স্বীকৃতিই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুও সাফল্য। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, জেনেভা’র উদ্যোগে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেতা বা রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন না, তিনি সাধারণ বাঙালির আকাঙ্ক্ষাকে অন্তরে ধারণ করেছিলেন। হাজার বছরের বাঙালি জাতিসত্ত্বা গঠনের বিভিন্ন স্রোতের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু ভাষাভিত্তিক সম্মান ও স্বকীয়তা রক্ষণে উদার-ধর্মনিরপেক্ষ-প্রগতিশীল-সহিষ্ণুসমাজ গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। বাঙালির স্বাধিকারের আন্দোলনকে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দিতে ও স্বাধীনতা আদায় করে তিনি অনন্য সাধারণ হয়ে ওঠেন; আর তাই তিনি সহস্র বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। অনগ্রসরতা, সাম্প্রদায়িকতা ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতির বিপরীতে অসাম্প্রদায়িকতা ও আধুনিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি বজায় রাখতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর অবদান রাখার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

মিশনের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। সকাল ৯টায় রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান-এর বাসভবন (বাংলাদেশ হাউজ) প্রাঙ্গণে মিশনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের  উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচীর সূচনা করা হয়। বিকাল সাড়ে ৫টায় মূল পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয় ।

এই পর্বে উপস্থিত ছিলেন- সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠন, সুইজারল্যান্ডস্থ বাংলাদেশী বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মিশনের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অতপর ১৫ আগস্টে শাহাদত বরণকারীদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং  বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পড়ে শোনান। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জীবনী ও অবদানের উপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

“জাতির পিতার অসমাপ্ত সাধনা”-শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিশনের মিনিস্টার কমার্শিয়াল দেবব্রত চক্রবর্তী। জাতির পিতার অবদানের উপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী  লীগের  সাধারণ সম্পাদক  শ্যামল খান,   সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম, কামাল হোসেন প্রমুখ।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান-এর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা তথা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সবাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন।

(এইদিনএসময়/১৮আগস্ট/এলএ)

সর্বশেষ নিউজ