পুরো শক্তি নিয়ে উপকূলীয় এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। রিমালের প্রভাবে সারাদেশেই বৃষ্টি পড়ে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকাতে ঘর-বাড়ি ভেঙে পড়ে। অনেক এলাকাতে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
রিমালের প্রভাবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ মে) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি এবং ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাবে। এ সময় তাপমাত্রা কমে আসবে।
রোববার (২৬ মে) রাতে ঘূর্ণিঝড় রিমালের সবশেষ অবস্থা নিয়ে এ তথ্য জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক।
তিনি বলেন, বাগেরহাটের মোংলা ও পটুয়াখালীর খেপুপড়া এবং পশ্চিমবঙ্গে টানা পাঁচ থেকে ৬ ঘণ্টা তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড় রিমাল দুর্বল হয়ে স্থলভাগে উঠবে।
আবুল কালাম মল্লিক বলেন, বাতাসের গতিবেগ পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ৮৯ কিলোমিটার নির্ণয় করা গেছে। তবে ধীরে ধীরে তা বেড়ে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। এ সময় সারাদেশে ভারি বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৮ থেকে ১২ ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
আবহাওয়ার ১৭ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসময় পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এদিকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদী বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালে প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ৮-১২ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
(এইদিনএইসময়/বিজয়)

