২২ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার

অনেক শহীদ ও আহত পরিবারের খবর পৌছেনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে?

ফারহানা সুমনা
spot_img
spot_img

স্বৈরাচার হটাও আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকারের গুন্ডাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ঝরে যায় অসংখ্য তাজা প্রাণ। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী সাড়ে‌ ১৪শ’র বেশি ছাত্র জনতা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। রক্তাক্ত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার । কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম  জানান এ পর্যন্ত নিহত হওয়ার সংখ্যা ১৪২৩ জন।এ সংখ্যাটি বাড়তে বা কমতে পারে।আহতদের সংখ্যা পাওয়া গেছে প্রায় ২২ হাজার। চিরতরে  পঙ্গু  বা অঙ্গহানী হয়েছে ৫৮৭ জনের। আন্দোলনে  গুরুতরভাবে চোখে আঘাতপ্রাপ্ত  হয়েছে প্রায় ৬৮৫ জন।এদের মধ্যে ৯২ জনের দুই চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে।

জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের অনেক পরিবার আজ চরম দুর্ভোগ দুঃখ দুর্দশার মধ্যে আছেন। অর্থের অভাবে অনেক আহত দেশপ্রেমিকের চিকিৎসা হচ্ছে না।

বাংলাদেশের মানুষ কোনো সরকার পতন আন্দোলনে এতটা নৃশংসতা দেখেনি কখনও। অসংখ্য মা হয়েছেন সন্তানহারা, বোন তার ভাই হারিয়েছেন, পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে।

১৭ বছর বয়সী আহনাফ ৪ আগষ্ট  মীরপুর ১০ নম্বরে  পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। মায়ের নিষেধ তাকে থামাতে পারেনি। সে আন্দোলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছে। মাকে স্বান্তনা দিয়েছে এই বলে—”আমি মুগ্ধ ভাইয়ের মতো, আবু সাঈদ ভাই এর মতো শহীদ হব, তুমি বলতে পারবে আমি শহীদ আহনাফের মা”।

আহনাফের মতো শহীদ হওয়ার বাসনা নিয়ে ঝাপিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো অসংখ্য কিশোর, যুবক। পুলিশের গুলিতে অসংখ্য ছাত্র জনতা শহীদ ও আহত হন। শহীদ ও আহতদের সঠিক সংখ্যা নিরুপনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বাস্থ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটিও কাজ করছে। সরকার জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের চিকিৎসার জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি ফান্ড করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আহতদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে দেয়া হতে পারে। এছাড়া শহীদ পরিবারকে মাসিক ২০ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত ভাতা দেয়া হতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান কমিটির সদস্য দচিব সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম।

জুলাই বিপ্লবের সূর্য সন্তানরা ছিলো আন্দোলনের প্রাণ। তাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বাধীনতা। তাই এই বিপ্লবের শহীদ পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা ও সবাইকে  জাতির কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া সময়ের দাবি।

আহতদের মধ্যে অনেকেই আছে লোকচক্ষুর আড়ালে। এমন অনেক পরিবার আছে যারা টাকার অভাবে আহত সন্তানের চিকিৎসা করতে  পারছেন না।

চোখে আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে কারও কারও চোখের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ব্যাবস্থা করে সম্পুর্ন অন্ধ হওয়া  থেকে বাঁচানো সম্ভব।

আহতদের মধ্যে অনেকে আছেন, যাদের হাত অথবা  পা কেটে ফেলা হয়েছে। তাদের জন্য আর্টিফিশিয়াল হাত ও পায়ের ব্যাবস্থা করে স্বাভাবিক একটা জীবনের ব্যাবস্থা  করার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।

অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালের  ICU তে আছেন। তাদের বাইরের দেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা  করা বর্তমান সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

দেশের জন্য আত্নত্যাগের যে দৃষ্টান্ত তারা  তৈরি করেছে তার  সঠিক ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় কখনও। তাই রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হলো তাদের সঠিক  সংখ্যা নিরুপন করা ও তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা  নেয়া।

সর্বশেষ নিউজ