আজকে দুপুর ১২.৩০ টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলার অভিযোগ দায়ের করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খাঁন। চীফ প্রসিকিউটর জনাব তাজুল ইসলাম বরাবর তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব অ্যাড. এস.এম. নূরে এরশাদ সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড মো: খালিদ হোসেন, সুপ্রীম কোর্ট শাখার সদস্য সচিব ড. শোয়েব মাহমুদ , ঢাকা বারের আহবায়ক অ্যাড. মোঃ মোমিনুল ইসলাম, সদস্য সচিব অ্যাড. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড. মেহেদী হাসান, যুগ্ম আহবায়ক অ্যাড. মোছাঃ. নার্গিস পারভীন, সুপ্রীম কোর্ট শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাড. সাজেদুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ।
অভিযোগপত্রটি:
বরাবর,
বিজ্ঞ চীফ প্রসিকিউটর মহোদয়,
চীফ প্রসিকিউটর কার্যালয়,
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল,
পুরাতন হাইকোর্ট ভবন, ঢাকা, বাংলাদেশ।
বিষয়: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম, অপহরণ, নির্যাতন ও প্রতিহিংসামূলক মিথ্যা মামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন।
ঘটনার তারিখ ও সময়: ১লা জুলাই ২০১৮, ডিএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিট, তৎকালিন এডিসি ইসতিয়াক এর রুমে।
ঘটনাস্থল: ডিএমপি সাইবার ক্রামই ইউনিট, ঢাকা।
অপরাধের ধরনঃ মোঃ রাশেদ খাঁন, পিতা- নবাই বিশ্বাস, মাতা- সালেহা খাতুন, সাং- বাসা/ হল্ডিং মুরারীদহ, গ্রাম/ রাস্তা- মুরারীদহ, ডাকঘর- ঝিনাইদহ-৭৩০০, ঝিনাইদহ সদর, ঝিনাইদহ পৌরসভা, ঝিনাইদহ।
আসামীদের নাম:
১। ইশতিয়াক আহমদ, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি)।
সাক্ষীগণের নামের তালিকাঃ
১। বাদী নিজেই, মোবাইল নং- ০১৭৭৩৮২০৯৯৬।
২। মাহফুজুর রহমান খান, পিতা- মোঃ রফিকুল ইসলাম খাঁন, মাতা- মাজেদা বেগম, সাং- কুলথুন, ডাকঘর- আজমতপুর-১৭২০, কালিগঞ্জ, গাজীপুর। মোবাইল নম্বর-
জনাব,
গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ড্রোন দিয়ে নজরদারি, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত সিটিটিসির সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমদ পুলিশ নামধারী একজন সন্ত্রাসী। কোটা সংস্কার আন্দোলন-২০১৮ চলাকালীনসময়ে শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারের পর তার দ্বারা আমি নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ২০১৮ সালের ১লা জুলাই আমাকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় আমি আক্রান্ত হই। এসময় ডিএমপিতে নিয়ে যাওয়ার পর পা দিয়ে রক্ত ঝরার কারণে আমাকে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নিয়ে যাওয়ার পরপরই এডিসি ইশতিয়াক আহমদ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মা-বাপকে তুলে গালিগালাজ করে আর বলতে থাকে, আমার চোরের মত চেহারা, আমি শেখ হাসিনাকে গালি দিয়েছি।
এরপর চেয়ার থেকে উঠে এসে বুট জুতা দিয়ে আমার অন্ডকোষে লাথি মারে, আমি চিৎকার করে উঠলে, সে আমাকে চড়-থাপ্পড়, লাথি-ঘুষি মারতে থাকে। আমি দিশেহারা হয়ে বারবার তার পা জড়িয়ে ধরতে যাই। এরপর সে আমার হাতে ক্যান্ডকাপ লাগিয়ে দিতে বলে, মুখে গামছা ঢুকিয়ে মুখ বাধার নির্দেশনা দেয় একজন পুলিশকে। যাতে চিৎকার করতে না পারি। এরপর আমার হাত ও মুখ বেধে ফ্লোরে ফেলিয়ে পুলিশের মোটা লাঠি দিয়ে একটানা নির্যাতন করে। এসময় আমার আঙ্গুল ফেটে ফ্লোরে রক্ত পড়ে এবং পুরো শরীর থেঁতলে যায়। আমি কয়েকবার সেন্সলেন্স হয়ে পড়ি। আমি তখন আর কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমার স্বাভাবিক সেন্স ছিলো না। মনে হচ্ছিলো, আমি মারা যাচ্ছি। দুনিয়ার কোন চিন্তা আমার মধ্যে ছিলোনা। মনে হচ্ছিলো আমি জাহান্নামে আছি। একটা পর্যায়ে এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী ক্লান্ত হওয়ার পরে আমাকে মারা বন্ধ করে। কিন্তু আমি আর দাঁড়াতে পারছিনা। যতোবার দাঁড়াতে যাচ্ছি, আমি ততোবার পড়ে যাচ্ছি। আর পড়ে গেলেই চেয়ার থেকে বারবার উঠে এসে এই ইশতিয়াক আমাকে লাথি-ঘুষি মারতে থাকে। পুরোদমে ক্লান্ত হওয়ার আগে সে কোনভাবেই অত্যাচার বন্ধ করেনা। আমার সামনেই ফ্লোরে পড়ে থাকা রক্ত তারা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেলে। এতো অত্যাচারের পরেও আমাকে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
আমি চিকিৎসার অনেক আকুতি করেও কোন চিকিৎসা পায়নি। আমাকে মাত্র কয়েকটি ব্যথার ট্যাবলেট দেয় তারা। সেসময়কার অত্যাচারের কারণে রিমান্ডে ও কারাগারে থাকাকালীন ঘুমাতে পারিনি। আমার পুরো মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। জেল থেকে বের হওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। তবে আমি আজও সুস্থ হতে পারিনি। ঐ নির্যাতনের পর থেকে, প্রায়ই আমার পেশার লো হয়ে যায়, শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এখনো পা-হাত ও শরীরের ব্যথায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা, ঘুমের মধ্যে আঁতকে উঠি। জেল থেকে বের হওয়ার পর দীর্ঘদিন আমি ঘুমের মধ্যেই চিৎকার করে উঠতাম।এই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ আমার মত অসংখ্য মানুষকে নির্যাতন করেছে। যেহেতু ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই পুনরায় ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান। সে ২০১৮ সাল থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত। আমি একজন ভুক্তভোগী হিসেবে মানুষরূপী এই হায়েনার উপযুক্ত শান্তির দাবি করছি।
এছাড়া গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তা জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারি ও ভিডিও ধারণ করেন। এবং পরবর্তীতে তথ্য গোপন করার উদ্দেশ্য সেই ভিডিও তিনি মুছে ফেলেন। সুতরাং তার সর্বোচ্চ শাস্তি না হলে শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হবে। আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
নিবেদক,
মোঃ রাশেদ খাঁন,
ভুক্তভোগী,
সাধারণ সম্পাদক,
গণঅধিকার পরিষদ
সংযুক্তিঃ-
১। পত্রিকার কাটিং ও ছবি সমূহ- ১৫ কপি।
২। জাতীয় পরিচয়পত্র- ১কপি।

