হাতিরঝিল ২২ নং ওয়ার্ড বাগিচার টেক ডাক্তার গলিতে।বাসায় ঢুকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ৮ ই মে (বৃহস্পতিবার) আছমা বেগম বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেছেন।
এর আগে বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে মামলার বাদীর ছোট ছেলে আলেকুর রহমান রতন (১৭) কুপিয়ে জখন করে সন্ত্রাসীরা।
মামলার বাদী আছমা বেগম জানান, সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে ঢাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিছে। এতদিনে মাত্র ১ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। এখনও মূল আসামীরা গ্রেফতার হয় নাই। সন্ত্রাসীদের ভয়ে গার্মেন্টসে যেতে পারি না। বড় ছেলেও কাজে যেতে পারে না। যে কোনো সময় তারা আবারও হামলা করতে পারে। এ নিয়ে তিনি ও তার পরিবার শঙ্কিত।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, বাদীর ছোট ছেলে আলেকুর রহমান রতন। ৩০ এপ্রিল রাতে। ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে বাগিচারটেক ৩ নং গলিতে আসলে। ২০-২৫ জন ঘিরে ধরে ওয়াপদা রোড মাছ বাজারের কাছে। হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। ১০ হাজার টাকা ও আমার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বাদী আছমা বেগম ও বড় ছেলে ইমন উদ্ধারের জন্য আসলে সন্ত্রাসীরা তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে না পারায় আসমা বেগম ও ইমন এর কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেয়। ৮ই মে (বৃহস্পতিবার) রাতে বাগিচারটেক ডাক্তার গলি হেলমেট পরে অজ্ঞাতনামা ৪ জন সন্ত্রাসী বাসায় ঢুকে গুলি করে। মামলা করলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
জানাযায়, হাতিরঝিল ২২ নং ওয়ার্ড বাগিচারটেক এলাকায় মাদক,চুরি,ছিনতাই,চাঁদাবাজি, গুলির ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রাকিবুল হাসান বাদশা ওরফে ছোট বাদশা গ্রুপ ও সুজন গ্রুপের মাঝে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। এপ্রিল মাসে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় দুই গার্মেন্টস কর্মীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুজন জেলে থাকায়। ছোট বাদশা গ্রুপ বাগিচারটেক এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক স্পোর্ট, নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অত্যাচারে এলাকায় সিসি ক্যামেরা রাখা যায় না। সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে, তার কেটে দেয়, খুলে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র থাকায় এলাকার মানুষ আতঙ্কে থাকে। মুখ খোলার সাহস পায় না।
হাতিরঝিল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সবুজ চন্দ্র পাল বলেন, ইতিমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী লাদেন (১৭) । গ্রেপ্তার হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম কাজ করছে। শীঘ্রই গ্রেপ্তার হবে।

