৬ মে ২০২৬, বুধবার

১৮ মাস পর ৮ শহীদের পরিচয় শনাক্ত, কবর দেখে আবেগাপ্লুত পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাতপরিচয়ের শহীদদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় ১৮ মাস পর শনাক্ত হয়েছে। কবর দেখার সময় পরিবারের সদস্যরা আবেগের ভারে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আদালতের নির্দেশে সিআইডি পরিচালিত ‘অজ্ঞাতপরিচয়ের শহীদদের মরদেহ শনাক্তকরণ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে শহীদদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ সোমবার (৫ জানুয়ারি) জানান, রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত ১১৪ জনের মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯টি পরিবারের নমুনার ভিত্তিতে ৮ জন শহীদ শনাক্ত হয়েছেন।

পরিচয় শনাক্ত শহীদের মধ্যে রয়েছেন: ঢাকা মাদারটেকের কাবিল হোসেন (৫৮), ঢাকার মোহাম্মদপুরের সোহেল রানা (৩৮), শেরপুরের আসাদুল্লাহ (৩১), ফেনীর রফিকুল ইসলাম (২৯), ময়মনসিংহের মাহিম (৩২), কুমিল্লার ফয়সাল সরকার (২৬), পিরোজপুরের রফিকুল ইসলাম (৫২) ও চাঁদপুরের পারভেজ বেপারী (২৩)।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ জানান, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় মরদেহ উত্তোলন, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও প্রোফাইলিং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে পুনঃসমাধিস্থকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

রায়েরবাজারে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন ও ডিএনএ সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ অন্যান্য মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছে।

এই ফরেনসিক কার্যক্রম বাংলাদেশের মানবাধিকারভিত্তিক তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং শহীদ পরিবারের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর করেছে।

সর্বশেষ নিউজ