৬ মে ২০২৬, বুধবার

পরাজয় সত্ত্বেও মসনদ ছাড়তে নারাজ মমতা; কী বলছে ভারতের সংবিধান?

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরাজয় সত্ত্বেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সাথে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা পরাজিত হইনি, পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে এই নির্বাচনের ‘খলনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সাংবিধানিক সংকট ও রাজ্যপালের ক্ষমতা: সাধারণত নির্বাচনের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। ভারতের সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়োগ বা বরখাস্ত করার ক্ষমতা রাজ্যপালের থাকলেও তা সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের মাধ্যমে শর্তযুক্ত।

তবে বিদ্যমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর বিধানসভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এবার ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি। ফলে নতুন বিধায়কদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন সরকার গঠনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমান মন্ত্রিসভার আইনি বৈধতা আর থাকবে না। সেক্ষেত্রে রাজভবন থেকে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ৩৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসনের পথও উন্মুক্ত থাকতে পারে।

সর্বশেষ নিউজ