৫ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

আজহারীর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানিয়ে যৌ/ন উত্তেজক পণ্য বিক্রি: ২ যুবক রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে নকল করে প্রতারণার দায়ে দুই যুবককে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে এসব ভিডিওবানিয়ে তারা যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রি করত। একই মামলায় আরও আটজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ রিমান্ডের এই আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামি হলেন— মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ (২১)।

প্রতারণার অভিনব কৌশল: মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ড. আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে ‘এআই’ এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে তা হুবহু নকল করত। এরপর সেই ভুয়া ভিডিওতে আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালাত।

সাধারণ মানুষ আজহারীর কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্য কিনতেন। আসামিরা সাধারণ গ্রাহকদের ফাঁদে ফেলতে ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ অন্তত ২৪টি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট খুলেছিল। এসব পেজ থেকে ভিডিওগুলো বুস্ট করা হতো। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’তে পণ্য পাঠিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত চক্রটি।

গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ: গত ২৩ এপ্রিল পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন বিলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এরপর পল্টন ও চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও তারা চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই চক্র পরিচালনা করত।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক সামিম হোসেন দশ আসামির দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং বাকি আট আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সর্বশেষ নিউজ