দেশে মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের ওপর এই নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের আশপাশে থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা ৯ শতাংশ ছাড়ায়। মার্চে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামলেও, এপ্রিলে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়।
খাদ্য ও অন্যান্য খাতে মূল্যস্ফীতির চিত্র:
খাদ্য খাত: এপ্রিলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে।
খাদ্যবহির্ভূত খাত: এই খাতে মূল্যস্ফীতি আরও বেশি, ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
গ্রাম ও শহর: গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং শহরে ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।
মজুরি বৃদ্ধি: এই সময়ে শ্রমিকদের মজুরি কিছুটা বেড়ে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম।
দাম বাড়ার কারণ: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে দেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্যেই এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয় করা হয়েছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দামের এই অস্থিরতা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে, ফলে বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক প্রান্তিকে গড় মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। শাকসবজি, মসলা ও প্রোটিনজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিগত পদক্ষেপ ও বিশেষজ্ঞদের মত: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, “শুধু মুদ্রানীতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, মজুতদারি নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো না গেলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।”
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস ও শঙ্কা: বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিরতা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম আগামীতে আরও বাড়লে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরও তীব্র হবে।

