৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার

রাজনীতি আমার জন্য নয়, হারের নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই দায়ী: বিস্ফোরক কাঞ্চন মল্লিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে পটপরিবর্তন। আর এই আবহেই চমক দিলেন টালিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা তথা বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। বিধানসভা ভোটে জয়ী বিজেপিকে শুভেচ্ছাবার্তায় ভরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ এবং নিজের রাজনীতি ছাড়ার নেপথ্যের রহস্য এবার জনসমক্ষে তুলে ধরলেন তিনি।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হননি কাঞ্চন মল্লিক। ভোটপর্ব শুরুর আগেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন সক্রিয় রাজনীতি থেকে। কিন্তু কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সেই জল্পনারই অবসান ঘটালেন অভিনেতা।

কী কারণে দল ছাড়লেন কাঞ্চন? সাক্ষাৎকারে কাঞ্চন স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে সাড়া দিয়েই তিনি রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলেন। কিন্তু ভোটে জেতার পর থেকে তাঁর অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। অভিনেতার কথায়, “ভোট জেতার পরও আমাকে বসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অফিস দেওয়া হয়নি। উত্তরপাড়ার মাখলার একটি ক্লাব থেকেই দীর্ঘ পাঁচ বছর আমি কাজ পরিচালনা করেছি এবং দলের কাছে কাজের সমস্ত হিসাবও দিয়েছি।” তিনি আক্ষেপ করে জানান, কাজের হিসাব দেওয়ার পরও দলের একাংশের কাছ থেকে ভালো ব্যবহারের বদলে মিলেছে কেবল অসহযোগিতা।

‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেই হার তৃণমূলের’ তৃণমূলের এই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই দায়ী করেছেন কাঞ্চন। তিনি বলেন, “কেবলমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের দিকে তাকিয়েই এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা এতদিন প্রকাশ্যে আনিনি। তৃণমূলের মধ্যে যদি এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব না থাকত, তাহলে হয়তো আজ এই পরাজয় দেখতে হতো না।” এর পাশাপাশি তিনি বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেন, রাজনীতির মঞ্চ তাঁর জন্য নয় এবং তিনি বিধায়ক পদের যোগ্য নন, তাই রাজনীতি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে সঠিক মনে হয়েছে।

রুদ্রনীলের জয়ে আনন্দ, রাজের জন্য আক্ষেপ তৃণমূলের পরাজয়ে তিনি যেমন ব্যথিত, ঠিক তেমনই দীর্ঘদিনের বন্ধু রুদ্রনীল ঘোষের বিজয়ে তিনি আনন্দিত। রুদ্রনীল যে এতদিন ধরে রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন এবং তাঁকে যে ‘ব্যান’ করে দেওয়া হয়েছিল, সে কথাও স্মরণ করিয়ে দেন কাঞ্চন। পাশাপাশি, পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা যে সম্পূর্ণ অন্যায়, সে কথাও বিনা দ্বিধায় স্পষ্ট করেছেন তিনি। আগামী দিনে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা।

রাজনীতি অতীত, লক্ষ্য এখন শুধুই অভিনয় ও পরিবার দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও নিজের চেনা জগতেই পুরোমাত্রায় ফিরতে চান কাঞ্চন মল্লিক। এখন থেকে তাঁর বাকি সময়টা বরাদ্দ থাকবে স্ত্রী ও সন্তানের জন্য। ভোটের এই আবহের মাঝেই কাঞ্চনের জন্মদিন। তবে সম্প্রতি তাঁর মেয়ে অসুস্থ থাকায় এবার কোনো বড় সেলিব্রেশন হচ্ছে না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতেই ছোট্ট করে জন্মদিন পালন করবেন বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।

সর্বশেষ নিউজ