গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৯ মে ২০২৬) সকালে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাসা থেকে এই রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী, শ্যালক এবং তিন শিশু সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর পালিয়ে গেছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া।
মরদেহের পাশে রহস্যময় জিডির কপি ও ১০ লাখ টাকার অভিযোগ
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি স্বাক্ষরহীন কম্পিউটার টাইপকৃত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি উদ্ধার করেছে। সেই কপিতে ফোরকান মিয়া অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী শারমিন, শ্বশুর ও শ্যালকসহ ১১ জন মিলে তাঁর ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর টাকা দিয়ে শ্বশুর জমি কিনলেও তা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। এমনকি গত ৩ মে তাঁকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা ও নিহতদের পরিচয়
নিহতরা হলেন—ফোরকানের স্ত্রী শারমিন খানম (৩০), তিন কন্যা সন্তান মীম (১৫), হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শারমিনের ছোট ভাই রসুল মিয়া (২২)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শারমিনের হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছিল। তিন সন্তানের মরদেহ মেঝেতে এবং শ্যালকের মরদেহ বিছানার ওপর পড়ে ছিল।
মদ ও ইয়াবা উদ্ধার: ফোরকানের ফোন ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার পর ফোরকান তাঁর এক চাচাতো ভাইকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান। পুলিশ বাসা থেকে মদের বোতল এবং ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। কাপাসিয়া থানার ওসি শাহীনুর আলম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

