১১ মে ২০২৬, সোমবার

রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্মম মারধর: পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

ন্যাশনাল ডেস্ক
spot_img
spot_img

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় এক যুবককে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে মারধর-এর এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল রোববার (১০ মে ২০২৬) মতিহার থানা এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা পৈশাচিকতা

নির্যাতনের শিকার তুষার (১৮) নগরীর কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক তুষারকে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রেখেছে। তাদের হাতে মোটা লাঠি। মারধর শুরুর আগে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘চালু করে দিয়েছি।’ অর্থাৎ ভিডিও ক্যামেরা সচল হওয়ার নির্দেশ পাওয়ার পরপরই শুরু হয় পৈশাচিকতা।

অভিযুক্ত হৃদয় ও সহযোগীদের নিষ্ঠুরতা

ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুষারকে অন্তত ১৪ বার লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করা হয়। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে তুষার বারবার আর্তনাদ করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নির্যাতনকারীদের একজনের নাম ধরে অনুরোধ করে বলেন, ‘হৃদয়, একটু দাঁড়াও ভাইয়া।’ কিন্তু সেই আকুতিতেও মন গলেনি হৃদয় ও তার সহযোগীদের। বরং আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে দেখা যায়। এই ধরণের নিষ্ঠুরতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা।

মতিহার থানা পুলিশের পদক্ষেপ ও ওসির বক্তব্য

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। নির্যাতনের শিকার তুষারকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চুরির অভিযোগ তুলে তাকে মারধর করা হয়েছে। তবে কোনও অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিণাম

ওসি গোলাম কবির স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কাউকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করা এবং সেই ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া— দুটিই দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দিলে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না পায়।

সর্বশেষ নিউজ