মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের (Mossad) কাছে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য পাচার ও সহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে ইরফান শাকুরজাদেহ নামের ওই গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, পেশাগত দক্ষতার কারণে শাকুরজাদেহ স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ে কাজ করা একটি বিজ্ঞানভিত্তিক সংস্থায় নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজ কর্মস্থলের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য পাচার শুরু করেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশি সংস্থাগুলোর সঙ্গে তার এই যোগাযোগ ছিল তিন স্তরের—যার প্রথম ও তৃতীয় পর্যায়ে ছিল মোসাদ এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ছিল সিআইএ। দেশটির বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিনি জেনেশুনে এবং স্বেচ্ছায় ওই সংস্থার স্পর্শকাতর তথ্য বিদেশি গোয়েন্দাদের কাছে সরবরাহ করেছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, শুরুর দিকে অনলাইনে একটি ‘সহযোগিতা ফরম’ পূরণ করে মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শাকুরজাদেহ। এরপর তিনি ই-মেইলের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য, কর্মস্থল, কাজের পরিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের বিস্তারিত বিবরণ আদান-প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিজেকে ‘কানাডাপ্রবাসী ইরানি’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি লিঙ্কডইনের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই ব্যক্তি মূলত মোসাদের একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি শাকুরজাদেহকে ডলার অর্থায়নে পরিচালিত বিদেশি একটি প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এই যোগাযোগ পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপ ও গুগল-ভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও গড়ায়। শাকুরজাদেহ ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময়ে স্যাটেলাইট প্রকল্প এবং কোম্পানির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করতেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, সিআইএর ওয়েবসাইটে নিজের ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য জমা দিয়ে সংস্থাটির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন ভিসা পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগের জন্য সিআইএর সহায়তা চেয়েছিলেন শাকুরজাদেহ। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি সিআইএর প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি আমেরিকান পাসপোর্ট ও অর্থের দাবি জানিয়েছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সিআইএর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা অবস্থাতেই তিনি পুনরায় মোসাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। মামলার নথিতে তার পরিচালক বা হ্যান্ডলার হিসেবে ‘রন’ ও ‘অ্যালেক্স’ নামের দুই ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, পাচারকৃত তথ্যের মধ্যে সংস্থার কর্মীদের পরিচয় ও যোগাযোগের ঠিকানা, বিভিন্ন প্রকল্পের বিবরণ, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ নথি ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নথিতে আরও বলা হয়েছে, নিজের পরিচয় গোপন রেখে যোগাযোগের জন্য বিদেশি ফোন নম্বর ও নতুন ই-মেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে একটি গোপন চ্যানেল তৈরির চেষ্টাও করেছিলেন তিনি।
(সূত্র: ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি ও ফারস নিউজ)

