১৩ মে ২০২৬, বুধবার

আসছে ইসলামী আন্দোলনের ছাত্রী উইং : নারী নেতৃত্ব ও ভোট ব্যাংক বৃদ্ধিতে নতুন কৌশল

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে সাংগঠনিক বিস্তার ও নারী ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে দলটি এবার আলাদা একটি ‘ইসলামী আন্দোলনের ছাত্রী উইং’ গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় সূত্রমতে, আগামী ঈদুল আজহার পর এই নতুন ইউনিটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

কেন এই নতুন ‘ছাত্রী উইং’ গঠনের সিদ্ধান্ত?

ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন যে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক প্ল্যাটফর্‌ম তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত, নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নারী নেতৃত্ব তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ইতিপূর্বে গত বছরের ৮ মার্চ ৩৪ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট গঠন করা হলেও, ছাত্রী উইংয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচনি ফলাফল ও জামায়াতের মডেল অনুসরণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে লড়ে, ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট এবং একটি আসনে জয়লাভ করে। নির্বাচনের চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রী সংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগিয়ে নারী ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই ইসলামী আন্দোলনের ছাত্রী উইং গঠনের বিষয়টি দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সংগঠনের কাঠামো ও নেতৃত্ব নির্বাচন

দলীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন এই ছাত্রী উইং ইসলামী আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণে একটি স্বতন্ত্র ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। এর নেতৃত্বে আলেমা, চিকিৎসক এবং শিক্ষকদের আনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটি মূলত জ্ঞান, দক্ষতা, দাওয়াহ এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীদের সংগঠিত করবে। আগামী ১৮ মে অনুষ্ঠাতব্য কেন্দ্রীয় সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত ও বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মাঠের রাজনীতি বনাম দাওয়াহ কার্যক্রমে

নতুন এই ইউনিটটি কি সরাসরি মাঠের রাজনীতিতে অংশ নেবে, নাকি দাওয়াহ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়ে দলের ভেতর আলোচনা হয়েছে। তবে, শেষ পর্যন্ত আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের অনুমোদনের পর একে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা শহরভিত্তিক কাঠামো তৈরির পাশাপাশি ডিজিটাল নেটওয়ার্কিংয়েও জোর দেবে ইসলামী আন্দোলনের ছাত্রী উইং।

নেতিবাচক ধারণা ভাঙার চেষ্টা?

ইসলামপন্থি দলগুলোকে ঘিরে নারী ইস্যুতে সমাজে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে দলটি। নারীদের নৈতিক ও সামাজিকভাবে সক্রিয় করার পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভবিষ্যতে এই সংগঠন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে এই সংগঠন কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা সময় ও মাঠপর্যায়ের সক্ষমতাই বলে দেবে।

সর্বশেষ নিউজ