চট্টগ্রামের মিরসরাই তথা বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। আজ বুধবার (১৩ মে ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।
জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া
পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে বাদ আছর তাঁর প্রিয় জন্মভূমি মিরসরাইয়ের ধুম ইউনিয়নের মহাজনহাট কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই—এই খবর মিরসরাই ও চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এক অকুতোভয় সৈনিক। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর মূল রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের মৃত্যুতে মিরসরাইবাসী একজন সত্যিকারের অভিভাবককে হারালো।
মুক্তিযুদ্ধে অবদান ও মন্ত্রিত্ব
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতেন।
উন্নয়ন ও ত্যাগের রাজনীতি
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন মিরসরাইয়ের উন্নয়নের রূপকার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান অপরিসীম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবরণ, নির্যাতন ও জীবননাশের হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর মৃত্যুতে মিরসরাইয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
শোকসন্তপ্ত পরিবার
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই—এই সত্য মেনে নেওয়া মিরসরাইবাসীর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

