মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন: মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

নুরুল আলম, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
spot_img
spot_img

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় মাদকাসক্তির চরম ও নির্মম এক বাস্তবতার সাক্ষী হলো স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এক মাদকাসক্ত ছেলের লাঠির আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন তাঁর বৃদ্ধ পিতা। গতকাল শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা এলাকায় এই কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটে। মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন-এর এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মাদক সেবন নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও বর্বরোচিত হামলা

নিহত আহমদ ডিলার (৭০) করেরহাট ইউনিয়নের পূর্ব অলিনগর বিশ্বটিলা এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর ছেলে ইব্রাহীম হোসেন মিলন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে মাদকাসক্ত ছিল। মাদকের টাকার জন্য সে প্রায়শই ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালাত। এছাড়া বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল।

শুক্রবার রাতে মিলন নিজ বাড়িতে বসে মাদক সেবন করার সময় পিতা আহমদ ডিলার তাকে বাধা দেন এবং গালমন্দ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেপরোয়া মিলন ঘরের ভেতরেই পিতার সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে মিলন একটি মোটা লাঠি দিয়ে তার বৃদ্ধ পিতাকে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। লাঠির গুরুতর আঘাতে মাথায় ও শরীরে মারাত্মক চোট পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আহমদ ডিলার।

পুলিশি তৎপরতা ও ঘাতক মিলন আটক

পিতা খুনের এই বর্বরোচিত ঘটনার পর স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করেন। খবরের গুরুত্ব বিবেচনা করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর রাত ১২টার দিকে অলিনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা ঘাতক ছেলে ইব্রাহীম হোসেন মিলনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সঙ্গে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে ওসির বক্তব্য

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পিতাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঘাতক ছেলেকে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটক করেছি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছেলে চরম মাদকাসক্ত এবং মাদকের কারণেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।” মিরসরাইয়ে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন-এর এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, মাদকের নীল দংশন কীভাবে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ