চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব সামগ্রী ফেলে দিলেন ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা: বেইজিং বিমানবন্দরে নজিরবিহীন কাণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের হাই-প্রোফাইল চীন সফর শেষ হতে না হতেই এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বেইজিং ত্যাগ করার মুহূর্তে ট্রাম্পের বহরে থাকা মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা চীনা প্রশাসনের দেওয়া সমস্ত উপহার ও সামগ্রী বর্জন করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব সামগ্রী ফেলে দিলেন মার্কিন প্রতিনিধিরা, যা দুই দেশের মধ্যকার সুপ্ত কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা স্নায়ুযুদ্ধেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগের নাটকীয় দৃশ্য

জানা গেছে, বেইজিং সফরকালে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং প্রটোকল অনুযায়ী কিছু বিশেষ সামগ্রী দেওয়া হয়েছিল। এসব সামগ্রীর মধ্যে ছিল প্রতিনিধি দলের অফিশিয়াল পরিচয়পত্র, বার্নার ফোন (সাময়িক ব্যবহারের জন্য মোবাইল) এবং বিশেষ পিন। তবে শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) বেইজিং ক্যাপিটাল বিমানবন্দর থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তারা বিমানে ওঠার আগে তাঁদের কাছে থাকা ওইসব চিনা সামগ্রী সংগ্রহ করে বিমানবন্দরের একটি বিনে (আবর্জনার পাত্রে) ফেলে দেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি এমিলি গুডিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেইজিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো কিছুই মার্কিন কর্মকর্তাদের এয়ার ফোর্স ওয়ানে তুলতে দেওয়া হয়নি। সাইবার নিরাপত্তা এবং গোপন তথ্য ফাঁসের চরম ঝুঁকি এড়াতেই ট্রাম্পের নিরাপত্তা দল এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদায়লগ্নে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক

এর আগে ট্রাম্প যখন বেইজিং বিমানবন্দর ছাড়ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। স্কুলশিক্ষার্থীরা দুই দেশের পতাকা নেড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিদায় জানায়। বিমানে ওঠার আগে ট্রাম্প চিরাচরিত ভঙ্গিতে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচিয়ে তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ইশারা করেন।

তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই নেতাই মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের লাইফলাইন খ্যাত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও জোর দিয়ে বলেন ট্রাম্প।

কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও পুতিনের বেইজিং সফর

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর থেকে বড় ধরনের কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির স্পষ্ট রূপরেখা বা ইরান যুদ্ধ নিয়ে চীনের সুনির্দিষ্ট সহযোগিতার ঘোষণা আসেনি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। উল্টো তাইওয়ান ইস্যুতে বৈঠকের আড়ালে মার্কিন প্রশাসনকে এক ধরণের সতর্ক বার্তা দিয়ে রেখেছেন শি জিনপিং।

এদিকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য চীন সফর নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মে চীন সফরে যেতে পারেন পুতিন। যদিও বেইজিং ও মস্কো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের তারিখ নিশ্চিত করেনি। তবে ট্রাম্পের বিদায়ের পরপরই পুতিনের এই সম্ভাব্য সফর মার্কিন প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও দীর্ঘ করবে। আর তার মাঝেই চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া সব সামগ্রী ফেলে দিলেন ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা—এই ঘটনা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অবিশ্বাসের দেয়ালকেই যেন বিশ্বমঞ্চে আরেকবার স্পষ্ট করে তুলল।

সর্বশেষ নিউজ