গত ২৬ মে সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে চলতি বছরের হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর, আল্লাহর মেহমানদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া পুরোদমে শুরু হয়েছে. পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরছেন হাজিরা. গতকাল রোববার (৩০ মে) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন বিমান সংস্থার মোট ১৫টি বিশেষ ফিরতি ফ্লাইটে চড়ে দেশের মাটিতে এসে পৌঁছেছেন ছয় হাজার ১৭৫ জন বাংলাদেশি হাজি. তবে এই আনন্দের আবহের মাঝেই এসেছে বেদনাদায়ক এক খবর। চলতি বছর হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে তীব্র গরম ও বার্ধক্যজনিত কারণে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়.
শনিবার (৩০ মে) রাতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্ক থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো জানানো হয়েছে.
জেদ্দা থেকে প্রথম ফ্লাইটের অবতরণ ও ৩ এয়ারলাইন্সের যাত্রী পরিবহন
হজ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে. প্রথম ফিরতি ফ্লাইটটি (এসভি-৫৮০৬) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৪৫ জন হাজি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ডানা মেলে. ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফলভাবে অবতরণ করে.
এ পর্যন্ত স্বদেশে ফিরে আসা মোট ছয় হাজার ১৭৫ জন হাজির মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪১৬ জন এবং বেসরকারি এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন পাঁচ হাজার ৭৫৯ জন হাজি. এদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক হাজার ১৮৪ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স এক হাজার ৬৯১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স তিন হাজার ৩০০ জন হাজি পরিবহন করেছে.
হজ ২০২৬-এর ফিরতি ফ্লাইট ও হাজিদের সর্বশেষ পরিসংখ্যান:
| বিমান সংস্থার নাম ও বিবরণ | পরিচালিত মোট ফিরতি ফ্লাইট | পরিবহণকৃত হাজির মোট সংখ্যা | সৌদিতে চিকিৎসাধীন ও মৃত্যুর খতিয়ান |
| ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স | ০৮টি সফল ফ্লাইট পরিচালনা। | ৩,৩০০ জন হাজি দেশে এনেছে। | মোট মৃত্যু: ৩৭ জন (পুরুষ ২৪, নারী ১৩)। |
| সৌদি এয়ারলাইন্স | ০৪টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা। | ১,৬৯১ জন হাজি দেশে এনেছে। | মক্কায় মৃত্যু: ২৭ জন; মদিনায় মৃত্যু: ১০ জন। |
| বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স | ০৩টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা। | ১,১৮৪ জন হাজি দেশে এনেছে। | হাসপাতালে ভর্তি: ২৬ জন; সেবা নিয়েছেন ১৭৬ জন। |
মক্কা ও মদিনায় ঝরে গেল ৩৭টি প্রাণ
পবিত্র মক্কা ও মদিনার পুণ্যভূমিতে হজ পালন করতে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা ৩৭ জন হাজির মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী রয়েছেন. ভৌগোলিক হিসাব অনুযায়ী, পবিত্র মক্কায় ২৭ জন এবং রাসুল (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করতে গিয়ে পবিত্র মদিনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে.
হজের তীব্র পরিশ্রম ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ১৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন. বুলেটিনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানেও ২৬ জন হাজি সৌদির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন.
মক্কায় সমন্বয় সভা, ফিরতি কার্যক্রম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় মক্কায় বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদের (এনডিসি) সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের একটি নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়. সভায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়া নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় করণীয়, মক্কা-মদিনার আবাসন ব্যবস্থা এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়. সভায় প্রশাসনিক দলের সদস্য, দায়িত্বরত চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন.
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪,৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩,৯৩৫ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল. হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইটটি যায় ২১ মে. অন্যদিকে ৩০ মে থেকে শুরু হওয়া এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়.

