রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র ১৯ দিনের মাথায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এদিন বেলা ১১টা ৫ মিনিট থেকে ১১টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত বিচারক রায় পড়ে শোনান। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উভয়কে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। রায় শোনার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই আসামি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এর আগে, আজ সকাল পৌনে ৯টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ এবং ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও দ্রুত বিচার: গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে স্কুল পড়ুয়া ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন, যাকে পুলিশ পরবর্তীতে আটক করে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সে আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পাঁচ দিন তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয় এবং একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়।

