প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের দিল্লী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ও আটকে রাখার নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় সংসদে। দেশের একজন অত্যন্ত হাই-প্রোফাইল রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টাকে ভারতের মাটিতে এমন হেনস্থার ঘটনায় সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে সংসদে ৩০০ বিধিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর জরুরি বিবৃতি দাবি করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের চলন্ত কার্যসূচির মাঝে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই জোরালো দাবি জানান জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম (সাইফুল আলম খান)।
দিল্লী ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে ২ ঘণ্টার নাটক
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, “গতকাল (১৪ জুন) আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমি যতটুকু বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি (ডিপ্লোম্যাটিক নোট) দেওয়ার পরও তাকে প্রায় দুই ঘণ্টা দিল্লীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়েছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “দীর্ঘ সময় হেনস্থা ও নাটকীয়তা শেষে দিল্লী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ড. জাহেদ উর রহমানকে শেষ পর্যন্ত ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিলেও আত্মসম্মান রক্ষার্থে তিনি আর দিল্লীতে যাননি, সেখান থেকেই বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। এটি আমাদের রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক।”
কূটনৈতিক ব্যর্থতার তদন্ত ও ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি
জামায়াত এমপি সাইফুল ইসলাম সংসদের ফ্লোরে দাঁড়িয়ে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন উপদেষ্টার সফরের ক্ষেত্রে কেন এমন সমন্বয়হীনতা তৈরি হলো? এ ব্যাপারে আসলে আমাদের কূটনৈতিক ব্যর্থতা কোথায় এবং এই চরম অবমাননাকর ঘটনার পর ভারতের কাছে কী জবাব চাওয়া হয়েছে বা কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা কার্যপ্রণালী বিধির সংসদে ৩০০ বিধিতে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আমি জোর দাবি করছি।”
তিনি মনে করেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোর দুর্বলতা এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক চরম অস্বস্তিকর চিত্র ফুটে উঠেছে, যা সংসদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো উচিত।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের রুলিং
জামায়াত এমপির এই কড়া বক্তব্যের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক রুলিং দেন। তিনি সাইফুল ইসলামের দাবিটিকে নাকচ না করে পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় সদস্য, আপনি যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি এভাবে সরাসরি পয়েন্ট অব অর্ডার হয় না। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী আপনি যদি সচিবালয়ে সুনির্দিষ্ট নোটিশ দেন, তবে তা অবশ্যই গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।” স্পিকারের এই রুলিংয়ের পর সংসদ অধিবেশনে পুনরায় নির্ধারিত কার্যসূচি ও বাজেট আলোচনা শুরু হয়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদ লবি ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন ও কূটনৈতিক টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

