দুবাইয়ে গ্রেপ্তার পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা থাকলেও তিনি এখনো দণ্ডিত নন। ফলে আইনি বিশেষজ্ঞরা এই প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করছেন।
আইনি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ২০১৪ সালে ‘দণ্ডিত বন্দি বিনিময়’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এতে একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চুক্তিটি মূলত দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর বেনজীর আহমেদ বর্তমানে বিচারাধীন মামলার আসামি।
-
বিশেষজ্ঞদের মতামত: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, চুক্তি না থাকলেও ‘অপরাধ সম্পর্কিত পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’-এর আওতায় কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তাকে ফেরত আনা সম্ভব।
-
দুদকের অবস্থান: দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল আরেফীন স্বপনের মতে, বিদ্যমান চুক্তির বাইরে ইন্টারপোলের সহযোগিতা কিংবা বিশেষ কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ফেরানোর পথ খোলা রয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মিশ্র। অতীতে নুর হোসেন বা সুমন শিকদারের মতো আসামিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও, পি কে হালদারের মতো অনেক বড় অপরাধীকে এখনও ফেরানো যায়নি।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে, যার মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলার বিচার কাজ চলছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হওয়ায় তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

