বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অঙ্গীকার

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

আজ বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১:৩০ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি’র সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি (H.E. Dr. Jalil Rahimi Jahanabadi)। অত্যন্ত আন্তরিক ও উষ্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে দুই পক্ষের উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের ফার্স্ট কাউন্সেলর মি. এসরাফিল আমিরি গোরজাদ্দিনি, ইরান কালচারাল কাউন্সেলর মি. মাহদি মোলারস এবং মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স অফিসার মি. মাহফুজুল হক। বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জনাব আলী আহমাদ মাবরুর।

বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময় এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পার্লামেন্টারী ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন, তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং মেডিকেল টুরিজম নিয়ে দুই পক্ষ ইতিবাচক মত বিনিময় করেন। বিশেষ করে, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ইরান সরকারকে বাংলাদেশে বিশ্বমানের একটি আধুনিক হাসপাতাল চালু করার প্রস্তাব দিলে রাষ্ট্রদূত তাতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ:

বিষয়বস্তু আলোচনার সারসংক্ষেপ
কূটনৈতিক সম্পর্ক পার্লামেন্টারী ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন ও উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি।
স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশে ইরানের অর্থায়নে বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব।
বাণিজ্য ও পর্যটন তেহরান-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং মেডিকেল টুরিজম সম্প্রসারণ।
শান্তি প্রক্রিয়া যুদ্ধ বিরতি ও শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় ইরানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা।
শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সাফল্য এবং ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। একই সাথে তিনি জামায়াতের বুদ্ধিবৃত্তিক ও গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিহত ইরানের নাগরিকদের জন্য গভীর শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধ বিরতি ত্বরান্বিত করায় ইরানকে ধন্যবাদ জানান। ডা. শফিকুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইরান তার প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে আগামী দিনেও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে।

নতুন উচ্চতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

ইরানের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ড. জালিল রহিমি জাহানাবাদি দুই দেশের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ককে আমরা এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।” বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইরান সরকার সব সময় পাশে থাকতে আগ্রহী বলে তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ নিউজ