আওয়ামী লীগ আমলের শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক রুদ্ধশ্বাস ও চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য মিলেছে। সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের এক সময়কার রানার, সেনা সদস্য ইমরুল কায়েস আজ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে প্রকাশ করেছেন ২০১২ সালের সেই ভয়াবহ অধ্যায়ের না জানা তথ্য।
আজ রোববার ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মহাখালী ফ্লাইওভারের সেই রাত ও ইলিয়াস আলী নিখোঁজ: জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস জানান, ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল র্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে মেজর জিয়াউল, মেজর নওশাদ এবং সাইফ স্যারসহ তারা মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে অবস্থান নেন। সে সময় জিয়াউল আহসান ক্রমাগত ফোনে ‘টার্গেট কখন আসবে’ তা জানতে চাচ্ছিলেন। তবে সেদিন টার্গেট না আসায় তারা ফিরে যান। এর ঠিক পাঁচ দিন পর, ১৮ এপ্রিল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পারে যে বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে মহাখালী থেকেই অপহরণ করা হয়েছে।
‘আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম’: ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর এক বিস্ফোরক কথোপকথনের সাক্ষী হন রানার ইমরুল। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, একদিন তৎকালীন তারিক স্যারের ফোন কল পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান জিয়াউল আহসান। ফোনে তাকে বলতে শোনা যায়— “আপনাদের কথামতো ইলিয়াস আলীকে গলফ (গুম) করলাম। এখন আপনারা এরকম করলে হবে? আমি কমান্ডো মানুষ। তাহলে পোস্টিং দিয়ে জঙ্গলে পাঠিয়ে দিন।”
সিসিটিভি ফুটেজ ধ্বংসের অভিযোগ: সাক্ষী ইমরুল কায়েস আরও দাবি করেন, ইলিয়াস আলীকে গুম করার পর ঘটনার প্রমাণ ও আলামত মুছে ফেলার জন্য স্বয়ং জিয়াউল আহসান র্যাব হেডকোয়ার্টারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলেছিলেন। এই সাক্ষ্যের পর ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার মোড় সম্পূর্ণ নতুন দিকে ঘুরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
#এম_আর

