চট্টগ্রামে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় সেপটিক ট্যাংক ও ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা এবং মহানগরীর ডাবলমুরিং থানা এলাকায় এই পৃথক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। নির্মাণাধীন ভবনের মাটির নিচের ট্যাংকে কাজ করতে নেমে মূলত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারা প্রাণ হারান বলে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ডাবলমুরিংয়ে রিজার্ভ ট্যাংক ট্র্যাজেডি
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাবলমুরিং থানাধীন ধনিয়ালাপাড়া এলাকার জাকির ম্যানশনের পাশে একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছিল। শুক্রবার দুপুরে ওই ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভ ট্যাংকের ভেতরের কাঠের সেন্টারিং খোলার কাজে দুজন শ্রমিক ভেতরে নামেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা তৎক্ষণাৎ অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন—সাকিব (পিতা: আমিনুল হক) এবং হৃদয় মিয়া (২৫, পিতা: মিলন মিয়া)। নিহত দুজনেরই বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।
💡 সেপটিক ট্যাংকের মরণফাঁদ: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বদ্ধ ট্যাংকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকে না। সেখানে মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড এবং হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়। কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম বা গ্যাস মাস্ক ছাড়া এসব ট্যাংকে নামা সরাসরি মৃত্যুর মুখে পড়ার শামিল।
রাউজানে বাঁচাতে গিয়ে জামাতাসহ দুজনের করুণ মৃত্যু
একই দিনে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে দুই নির্মাণ শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন—রাউজানের কচুখাইন এলাকার প্রদীপ দাশ এবং বোয়ালখালীর কদুরখিল এলাকার সমীরণ দাশ। এর মধ্যে নিহত প্রদীপ দাশ ওই বাড়ির মালিক রতন ডাক্তারের জামাতা বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রতন ডাক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির পুরনো সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে প্রদীপ দাশ নামেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তিনি নিমিষেই অবশ হয়ে ভেতরে পড়ে যান। তাকে দীর্ঘক্ষণ সাড়াশব্দ না পেয়ে উদ্ধার করার জন্য পেছনে পেছনে ট্যাংকে নামেন নির্মাণ শ্রমিক সমীরণ দাশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
📊 দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
• স্থান ১: ধনিয়ালাপাড়া, ডাবলমুরিং (নিহত ২: সাকিব ও হৃদয়, বাড়ি নোয়াখালী)।
• স্থান ২: কচুখাইন, রাউজান (নিহত ২: প্রদীপ দাশ ও সমীরণ দাশ)।
• কারণ: বদ্ধ ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ ও অক্সিজেনের অভাব।
বর্তমানে চারজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শ্রমিক ও নিহতদের পরিবারে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সচেতনতা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

