কক্সবাজার ভ্রমণের পথে কুমিল্লার একটি রেস্তোরাঁয় ভুলে ফেলে যাওয়া দুই বছর বয়সী এক পাকিস্তানি শিশুকে ৬ ঘণ্টা পর ফিরে পেল তার পরিবার। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার ‘জাইতুন রেস্তোরাঁ’ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।
করাচি থেকে আসা ১১ সদস্যের এই পাকিস্তানি পরিবারটি শুক্রবার বাংলাদেশে পৌঁছায়। শনিবার ভোরে দুটি গাড়িতে করে তাঁরা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় নাস্তা করার জন্য যাত্রাবিরতি নেন তাঁরা। খাবার শেষে পরিবারের সদস্যরা তাড়াহুড়ো করে আবার রওনা দিলে শিশুটিকে রেস্তোরাঁতেই রেখে যান।
রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী এ কে এম লুৎফুর রহমান জানান, পরিবারটি দুটি ভিন্ন গাড়িতে ছিল। বাবা ভেবেছিলেন শিশুটি মায়ের গাড়িতে আছে, আর মা ভেবেছিলেন শিশুটি বাবার গাড়িতে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণে দীর্ঘক্ষণ বিষয়টি কারও নজরে পড়েনি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল পার হওয়ার পর চা পানের জন্য বিরতি দিলে তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। একই সময়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে শিশুর ছবি দিয়ে পোস্ট করলে পরিবারটি সেটি দেখতে পায় এবং দ্রুত যোগাযোগ করে।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, মা-বাবাকে না দেখে শিশুটি প্রথমে কান্না করলেও কর্মীরা তাকে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখিয়ে এবং খেলার ছলে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করেন। প্রায় ৬ ঘণ্টা শিশুটি তাদের তত্ত্বাবধানেই ছিল। এই মানবিক বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকেও অবহিত করা হয়।
বেলা আড়াইটার দিকে পরিবারটি পুনরায় রেস্তোরাঁয় ফিরে আসে এবং শিশুটিকে ফিরে পায়। সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিশুটির মা-বাবা। এই ঘটনার জন্য তাঁরা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১১ সদস্যের এই পর্যটক পরিবারটি ১২ দিন বাংলাদেশে ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে।

