জামায়াতে ইসলামীর জোট থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র রাজনীতি করার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সাধুবাদ জানান। পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, এনসিপির কয়েকজন নেতা তাঁকে জানিয়েছেন, এখনই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও শিগগিরই জামায়াতের জোট থেকে বের হয়ে আসবে দলটি।
এনসিপির সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ও দলটির নেতা আসিফ মাহমুদের বক্তব্যেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ওই গণবিক্ষোভ থেকে ৩১ অক্টোবরের লংমার্চের পক্ষে তেমন কারও বক্তব্য চোখে পড়েনি। তবে ইতিবাচক দিক হলো, অনেক দিন পর এনসিপির কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর দলটির কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য লোকসমাগম হচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় পর হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, এভাবে স্বতন্ত্র রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারলে আগামী এক বছরের মধ্যে এনসিপি একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে এবং আওয়ামী লীগের শূন্যতা পূরণে সক্ষম হতে পারে। এমনকি আগামী জাতীয় নির্বাচনেও দলটির প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এনসিপি বারবার প্রধান বিরোধী দল হওয়ার স্বপ্নের কথা বলেছে। কিন্তু জামায়াতের জোটে থেকে সেই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ উপলব্ধি দলটির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে তৈরি হওয়ায় তারা স্বতন্ত্র কর্মসূচির পথে হাঁটছেন।
তবে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির পথে বড় বাধা হিসেবে দলটির আটজন সংসদ সদস্যকে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনেও জামায়াতের ভোটে সংসদ সদস্য হওয়ার আশায় তাঁরা জোটের রাজনীতি ধরে রাখতে মরিয়া। তবে এনসিপির অধিকাংশ নেতাকর্মী স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, এনসিপির জোট ছাড়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়, নাকি দলটি জামায়াতের পকেট সংগঠন হিসেবেই থেকে যায়। একই সঙ্গে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনীতির প্রতি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান তিনি।

