উত্তরাখণ্ডে ১০ বছরে ১৩ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, প্রাণ গেছে ২৭ জনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

ভারতের উত্তরাখণ্ডে আবারও যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বদরিনাথ থেকে পাঁচ তীর্থযাত্রী নিয়ে জোশিমঠে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হেলিকপ্টারটি। এ নিয়ে গত ১০ বছরে উত্তরাখণ্ডে ১৩টি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ও পর্যটনকেন্দ্র উত্তরাখণ্ড। কেদারনাথ, বদরিনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীকে ঘিরে প্রতিবছর সেখানে বিপুলসংখ্যক তীর্থযাত্রী যান। দুর্গম পাহাড়ি পথে যাতায়াতের সময় বাঁচাতে অনেকেই বেসরকারি হেলিকপ্টার পরিষেবা ব্যবহার করেন। তবে একের পর এক দুর্ঘটনা এ পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে ১৩টি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ জন। গত পাঁচ বছরে দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত বছর রাজ্যসভায় ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহল জানিয়েছিলেন, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশজুড়ে ১২টি বড় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাতটি উত্তরাখণ্ডে।

২০২২ সালের অক্টোবরে কেদারনাথে একটি যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ সাতজনের মৃত্যু হয়। ২০২৫ সালে উত্তরকাশিতে মে ও জুন মাসে পরপর দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র ৪৫ দিনের ব্যবধানে ওই যাত্রাপথে পাঁচটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুটি ছিল প্রাণঘাতী।

শুধু উত্তরাখণ্ড নয়, মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়েও গত পাঁচ বছরে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। মহারাষ্ট্রে চারটি দুর্ঘটনায় সাতজন এবং ছত্তিশগড়ে একটি দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে ভারতের বিভিন্ন স্থানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তরাখণ্ডে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ প্রতিকূল আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতা। পাহাড়ি উপত্যকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, বৃষ্টি ও মেঘের কারণে উড্ডয়ন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টিও সামনে এসেছে।

শুক্রবারের দুর্ঘটনাটি ঘটে ট্রান্স ভারত অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেডের একটি হেলিকপ্টারে। বদরিনাথ থেকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে জোশিমঠে ফেরার সময় হাথি পর্বতের পেছনে ছায়ি গ্রামের কাছে হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে মারওয়ারি সেতুর কাছে জেপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অদূরে পাহাড়ের গায়ে সেটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। নিহত পাঁচ যাত্রীই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। প্রাথমিকভাবে প্রতিকূল আবহাওয়া, অবিরাম বৃষ্টি ও কম দৃশ্যমানতাকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চারধাম যাত্রায় হেলিকপ্টারের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থাও আরও কঠোর করা প্রয়োজন। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় উড্ডয়ন ও অবতরণের জন্য পাইলটদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার যথাযথ পূর্বাভাস এবং যান্ত্রিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তীর্থযাত্রীদের দ্রুত যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার পরিষেবাই প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।

 

সর্বশেষ নিউজ