যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিপরীত দিকে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গভর্নর নির্বাচনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ভোটে ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, যা ১৯৭০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি। এমনকি আইওয়া, টেক্সাস, ওহাইও, সাউথ ক্যারোলিনা ও কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ভরাডুবির নেপথ্যে প্রধানত ৪টি ভুল ও নীতিগত ব্যর্থতা কাজ করেছে: ১. অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি: জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও বাস্তবে ছয় মাস ধরে মজুরির চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল। শেষ মুহূর্তে পেট্রলের দাম ৪০% বৃদ্ধি, ডিজেলের রেকর্ড দাম ও বাড়ি ঋণের সুদের হার তিন বছরের শীর্ষে পৌঁছানো ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে। ২. পররাষ্ট্রনীতি ও শুল্কযুদ্ধ: যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো, বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে দেশের কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে মারাত্মক ধস নামা। ৩. হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থন হারানো: সীমানা পুনর্নির্ধারণ করেও শেষ রক্ষা হয়নি; ২০২৪ সালে যে হিস্পানিক ভোট ট্রাম্পের পক্ষে গিয়েছিল, এবার তা ব্যাপকভাবে ডেমোক্র্যাটদের ঝুলিতে ফেরত গেছে (যেমন: টেক্সাসের ওয়েব কাউন্টিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর ৪৭% পয়েন্টের ব্যবধানে জয়)। ৪. বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক প্রচারণা: সাফল্য তুলে ধরার মতো ইস্যু না থাকায় সমাজতন্ত্র ও ধর্মভিত্তিক নেতিবাচক আক্রমণ চালান ট্রাম্প, যা সাধারণ ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এই পরাজয়ের ফলে একদিকে যেমন কংগ্রেসে ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হলো, তেমনি রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও তাঁর একক প্রভাব নিয়ে এক কঠিন রাজনৈতিক সংকট দেখা দিল।

