সুনামগঞ্জে কাঁঠাল নিয়ে সংঘর্ষ, মামলা হয়নি দুদিনেও

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

সংঘর্ষের পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রাম এখন পুরুষশূন্য প্রায়। অনেকেই আশপাশের গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এখনো সেখানে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। গ্রামে অবস্থান করছেন পুলিশ সদস্যরা। নতুন কাউকে দেখলেই নাম-পরিচয় জিজ্ঞাসা করছেন তারা। এদিকে ঘটনার দুদিন পার হলেও কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে পুলিশ গত তিন দিনে এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশও এ ঘটনায় কোনো মামলা করেনি।

এ ব্যাপারে হাসনাবাদ জামে মসজিদের ইমাম আক্তার হোসেন বলেন, ‘গ্রামে তেমন কোনো পুরুষ নেই, আমার চলা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন একাই নামাজ পড়ি। আগে মহল্লা থেকে খাবার আসত, কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। ঘটনার পর সবই ভাগল। কারও বাড়িত গিয়া চাইয়া খুঁইজ্জা খাই, নইলে অনাহারে থাকি।’ এদিকে, ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, পুরুষের পাশপাশি অধিকাংশ কম বয়সী নারীও বাড়ি ছেড়েছেন।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ বলেন, এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে দুপক্ষের লোকই পলাতক। অন্যদিকে, শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. খালেদ চৌধুরী জানান, কোনো পক্ষ এসে মামলা করে কি না সে অপেক্ষায় আছি। তবে তাদের অনেকে পলাতক আবার কেউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দোষীদের ধরতে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত হাসনাবাদ গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, , হাসনাবাদ গ্রামের দ্বীন ইসলামের পক্ষ ও মালদার আলীর পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত শুক্রবার জুমার পর উন্নয়নের অর্থ সংগ্রহের জন্য মসজিদে দান করা একটি কাঁঠাল নিলামে তোলা হলে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে গত সোমবার সকালে উভয়পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়। এতে ৪ জন নিহত হন।

(এইদিনএইসময়/১৩জুলাই/২০২৩)

সর্বশেষ নিউজ