ব্যাংকনির্ভরতা কমাতে সরকারের নজর বন্ড-সুকুকে

Published on

spot_img

ব্যাংক ঋণের চাপ কমাতে বিকল্প অর্থায়নের পথে সরকার

রাজস্ব আয়ের তুলনায় সরকারি ব্যয় বেশি হওয়ায় বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছরই ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় এবার বিকল্প অর্থায়নের দিকে জোর দিচ্ছে সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড, দীর্ঘমেয়াদি সুকুক, বাজেট সহায়তা, ট্রেজারি বন্ডের বিপরীতে বন্ধকি ঋণ এবং সবুজ ও নীল বন্ডসহ একাধিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এসবই মূলত ঋণের বিকল্প পদ্ধতি। তাই রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব কমানো যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে সরকার মোট প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকে এসেছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বেশি।

চার বাজারে সার্বভৌম বন্ড

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে প্রথমবারের মতো চীন, জাপান, হংকং ও যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজারে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে।

চীনের বাজারে ‘পান্ডা বন্ড’, জাপানে ‘সামুরাই বন্ড’, হংকংয়ে ‘ডিমসাম বন্ড’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডলারভিত্তিক বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোন বাজারে কত অর্থ ও কী শর্তে বন্ড ছাড়া হবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে।

এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই ও কৌশল নির্ধারণে জেপি মরগান ও এইচএসবিসির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক অনুকূল সুদে বন্ড ছাড়তে হলে দেশের ঋণমান উন্নত করা জরুরি।

অবকাঠামোর বিপরীতে সুকুক

ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমাতে সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর বিপরীতে দীর্ঘমেয়াদি সুকুক ইস্যুর পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।

২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ সুকুক ইস্যু করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার সুকুক ইস্যু হয়েছে। এসব অর্থ অবকাঠামো, নিরাপদ পানি, শিক্ষা ও গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যবহার করা হয়েছে। এবার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রেডেবল সুকুক ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাড়ছে বাজেট সহায়তা

বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও বাজেট সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি ১৫০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে চলমান প্রকল্পের অব্যবহৃত বা ধীরগতির অর্থ থেকে ৭৮৫ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গেও ১৪০ কোটি ডলারের চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি ডলার সরাসরি নীতিভিত্তিক বাজেট সহায়তা হিসেবে ব্যবহারের কথা রয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ বছর মেয়াদি একটি উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ১০০ কোটি ডলার ঋণপ্রবাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

ঝুঁকি বিবেচনার পরামর্শ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সুদ, ঝুঁকি প্রিমিয়াম ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বন্ড বিশ্বব্যাংক, এডিবি বা দ্বিপক্ষীয় ঋণের তুলনায় ব্যয়বহুল হতে পারে। বিশেষ করে ডলারভিত্তিক ঋণে বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি রয়েছে।

তাই বিকল্প অর্থায়নের পথ খুললেও মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রাজস্ব আয় বাড়ানো। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষতা এবং সরকারি ব্যয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

সর্বশেষ

হাইকোর্টে বাড়ছে রিট নিষ্পত্তি, কমছে মামলার চাপ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার বেড়েছে।...

স্বর্ণের দাম বাড়ল, ভরিতে নতুন রেকর্ড

দেশের বাজারে ফের বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা বাড়িয়েছে...

তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টে মমতা

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।...

স্বর্ণালংকারসহ প্রবাসীর স্ত্রী উধাও

মাদারীপুরের ডাসারে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে রুপা আক্তার (১৯) নামে এক...