রামিসা হত্যা মামলার ডিএনএ রিপোর্ট হবে আজ, রোববারের মধ্যেই আদালতে জমা হচ্ছে চার্জশিট

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের অবুজ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কার্যক্রমে নজিরবিহীন গতি এসেছে। দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা ডিএনএ রিপোর্ট হবে আজ। ফরেনসিক ল্যাব থেকে এই ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আগামীকাল রবিবারের মধ্যে আদালতে বহুল প্রতিক্ষিত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করবে পুলিশ।

আজ শনিবার (২৩ মে ২০২৬) বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এই চাঞ্চল্যকর আইনি অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “রামিসা হত্যাকাণ্ডের বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণের জন্য ডিএনএ টেস্ট ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবারের মধ্যেই এই ডিএনএ রিপোর্ট আমাদের হাতে পাওয়ার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে। ল্যাব রিপোর্টটি পাওয়ামাত্রই আগামীকাল রোববার (২৪ মে) আমরা আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিতে পারব।”

পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্পের সেই নারকীয় ট্র্যাজেডি

মামলার বিবরণী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে (২০২৬) মিরপুরের পল্লবী থানার মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত প্রায় বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির অবুজ শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ডেকে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পরদিন, অর্থাৎ ২০ মে নিহত শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশি তৎপরতায় প্রধান অভিযুক্ত কুখ্যাত মাদকাসক্ত সোহেল রানা এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

রামিসা হত্যা মামলার আইনি খতিয়ান ও বর্তমান অবস্থা:

ভুক্তভোগী ও পরিচয় প্রধান আসামি ও জবানবন্দি মামলার বর্তমান অগ্রগতি (২৩ মে) চার্জশিট জমার সম্ভাব্য তারিখ
রামিসা আক্তার (৮ বছর), ২য় শ্রেণি, পপুলার মডেল হাইস্কুল। সোহেল রানা (১৬৪ ধারায় অপরাধ ও ইয়াবা সেবনের দায় স্বীকার)। ফরেনসিক ল্যাবে নিখুঁত ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা সম্পন্ন। আগামীকাল ২৪ মে ২০২৬ (রোববার)-এর মধ্যে।
১৬৪ ধারায় ঘাতক সোহেল রানার রোমহর্ষক জবানবন্দি

গ্রেফতারের পর গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে হাজির করা হয় ঘাতক সোহেল রানাকে। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের পৈশাচিক অপরাধের কথা স্বীকার করে এক হাড়হিম করা জবানবন্দি রেকর্ড করায় এই নরপশু।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, অবুজ শিশু রামিসার ওপর ওই নারকীয় ও পাশবিক নির্যাতন চালানোর ঠিক কিছুক্ষণ আগেই সে নিজে তীব্র মাত্রার মাদক ‘ইয়াবা’ সেবন করেছিল। মাদকাসক্ত বিকৃত মগজেই সে এই কাণ্ড ঘটায়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কড়া নিরাপত্তায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, আসামির নিজের মুখের স্বীকারোক্তি থাকলেও মামলাটিকে আদালতে আইনিভাবে শতভাগ নিশ্ছিদ্র ও অকাট্য করতে ফরেনসিক প্রমাণের বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই আজ ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার সাথে সাথেই চার্জশিট দাখিলের সমস্ত কাগজপত্রের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যাতে করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নরপশুদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

সর্বশেষ নিউজ