মালয়েশিয়াসহ বাংলাদেশের সব বৈদেশিক শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, শুধু মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নয়, পশ্চিম এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বৈধ ভিসা থাকার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এসব সমস্যার সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু তা না করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারই সিন্ডিকেট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। জামায়াতে ইসলামী এ সেমিনারের আয়োজন করে।
দুই বছরেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত মাসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পায় ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এর আগে ২০১৬ ও ২০২২ সালেও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়েছিল। ওই এজেন্সিগুলো ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
এবারও অল্পসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়ায় নতুন করে সিন্ডিকেট গঠনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এবার কাজ পাওয়া এজেন্সিগুলোর অধিকাংশই অপরিচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২২ সালে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারিভাবে কর্মীপ্রতি ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৯ হাজার টাকা। তবে বাস্তবে গড়ে একজন শ্রমিকের কাছ থেকে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ওই সময় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরও ১৭ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারেননি। এ ঘটনায় করা দুর্নীতির মামলা এখনও চলমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান নাগরিক দাতুশ্রী আমিন নূর, বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন, সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ, সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ, নিজাম হাজারী এবং সাবেক বিএনপি নেতা কাজী মফিজুর রহমানকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, নতুন ২৫টি লাইসেন্সের নামে প্রায় ৪২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর ফলে মালয়েশিয়ায় যেতে একজন কর্মীর অভিবাসন ব্যয় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ অন্যরা।
