যে দুই কারণে জামায়াতের নিবন্ধন আটকে গেল— জানালেন আইনজীবী

ফারহানা সুমনা
spot_img
spot_img

 

জুলাই-আগস্টে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের আট মাস পার হলেও এখনও আপিল বিভাগে ঝুলছে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন মামলা। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দলটির করা আপিল ও লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) গত বছরের ১৯ নভেম্বর খারিজ করে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

আপিলকারীর পক্ষে সেদিন কোনো আইনজীবী না থাকায় আপিল বিভাগ ওই আদেশ (ডিসমিসড ফর ডিফল্ট) দেন। পরে দেরি মার্জনা করে আপিল ও লিভ টু আপিল পুনরুজ্জীবিত চেয়ে দলটির পক্ষ থেকে পৃথক আবেদন করা হয়।

শুনানি নিয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর আপিল বিভাগ আবেদন মঞ্জুর (রিস্টোর) করে আদেশ দেন। এরপর জামায়াতের আপিল ও লিভ টু আপিল শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠে। গত ৩ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হয়।

জামায়াতের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।

শিশির মনির বলেন জামায়াতের নিবদ্ধন মামলাটি একটা সার্টিফিকেটের আপিল। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে সার্টিফিকেটের আপিল হয়েছে। এই সার্টিফিকেটের আপিল মানেই সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। যেহেতু সার্টিফিকেটের আপিল। তাই সার্টিফিকেটের আপিলটা পূর্ণাঙ্গভাবে শুনানি হওয়া প্রয়োজন।

শুনানির বিষয় নিয়ে শিশির মনির বলেন পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরুও হয়েছে।  শুরু হওয়ার একপর্যায়ে যারা মূলত এই মামলার অপরপক্ষ ছিলেন, তাদের যিনি আইনজীবী ছিলেন তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তাদের একজন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে তারাও সময় নিয়েছেন আইনজীবী আসবেন কিনা।

শুনানি শেষ পর্যন্ত হবে কিনা তার আলোচনায় শিশির মনির বলেন, পরবর্তীতে প্রশ্ন এসে দাঁড়াল শুনানি হবে কিনা? তারা না আসলেও কি শুনানি হবে? তারা না আসলেও  শুনানি শুরুও হয়েছে। অর্ধেকেরও বেশি শেষ হয়ে গেছে শুনানি।

শিশির মনির বলেন, শুনানির ‘এই সময় একজন বিচারপতি দুর্ঘটনার শিকার হন। যিনি এই মামলার শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন তার অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে যায়। এই অ্যাক্সিডেন্টের কারণে প্রায় একমাস আদালতে আসতে পারেননি।’

শিশির মনির বলেন, কোর্ট  খুলবে ২০ তারিখ। ২০ তারিখ খুললে আপিল মামলার শুনানি হয় প্রতি মঙ্গলবার এবং বুধবার। অর্থাৎ ২২, ২৩ এই সময়ে এই মামলাগুলোর শুনানি শুরু হবে এবং দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছি।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জামায়াত ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়েছে। এ পর্যন্ত জামায়াতের ৫৫ জন জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৫০ জন পুরুষ ৫ জন নারী সদস্য বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, নিবন্ধন পাওয়া দেরি হওয়া নিয়ে আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে বেদনার। আমরা আশা করি আমরা ন্যায়বিচার পাবো। আমরা মনে করি এটা আইন এবং সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী তো এদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে রাজেনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছেন। অবশ্যই এসব বিষয়গুলো আদালতের সামনে আছে। আমরা আশা করি আইনানুগ পন্থায় আমাদের অধিকার ফিরে পাব।

উল্লেখ্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে জারি করা আগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়।

সর্বশেষ নিউজ