ঢাবির সাবেক উপাচার্য আক্তারুজ্জামান ও প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খাঁন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

আজ দুপুর ৩.০০ টায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাশেদ খাঁন। ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আনুমানিক ৫০০ শতাধিক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তিনি এই মামলা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহবায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহবায়ক আবু হানিফ, মনজুর মোর্শেদ মামুন, ও আইনজীবী এডভোকেট সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক সানাউল্লাহ, সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।

মামলার আবেদন:

বরাবর,
অফিসার ইনচার্জ,
শাহবাগ থানা,
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

বিষয়: এজাহার

জনাব,
২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল কোটা সংস্কার আন্দোলনের গণপদযাত্রা কর্মসূচি ছিলো। কর্মসূচি শাহবাগে চলাকালীন সময়ে সন্ধ্যা ৬.৩০ টার দিকে পুলিশ অতর্কিত হামলা ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ঢাবির বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে আসে। নারী শিক্ষার্থীরা হলের গেট ভেঙে এসে আন্দোলনে যোগ দেয়। আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনে ঢাবির সাথে যুক্ত হয়। শিক্ষার্থীদের এই গণবিস্ফোরণ দেখে ভয় পেয়ে যায় শেখ হাসিনা। তখন আন্দোলন থামাতে তারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। হঠাৎ ৯ এপ্রিল রাত ১.০০ টার দিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ লেখা টিশার্ট পরিহিত যুবকরা উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় ১০ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম কামরুল আহসান শাহবাগ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ জুলাই শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় আমাকে গ্রেফতারের পরে ৮ জুলাই উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। দুই মামলায় আদালত আমার ১৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠায়। পুলিশ হেফাজতে ও রিমান্ডে আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। কোন অন্যায় না করেও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দুটিতে আমাকে জেল ও রিমান্ড খাটতে হয়েছে। তাই ভুক্তভোগী হিসেবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে আমি নিন্মোক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এজহার দাখিল করছি;
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী, আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি আবিদ আল হাসান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ( পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সভাপতি), নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাকিব হাসান সুইম,
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান, ঢাবি শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ( পরবর্তী উপাচার্য), ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুস সামাদ প্রমুখ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আনুমানিক ৫০০ শতাধিক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও ঢাকা কলেজসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৮ ও ৯ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, দমন-পীড়ন, গুলি বর্ষণ ও উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুরে অংশগ্রহণ করে। সেসময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয় লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আশিকুর।
গুলিতে তার যকৃৎ ও ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে গুলিটি। ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহণ করে। আমি নিজেও ৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট সামনে রাবার বুলেটে আক্রান্ত হই।

উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলার সময় ঢাবি ক্যাম্পাসের আশপাশে অবস্থান করছিলেন আওয়ামীলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানকসহ আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা। তাদেরকে রাত ২.০০ টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে দেখা যায়।
মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বানচাল ও বিতর্কিত করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নামধারী আওয়ামী দোসররা, তৎকালীন কেন্দ্রীয় ও ঢাবি ছাত্রলীগ এবং আওয়ামীলীগের হাইকমান্ড ঢাবি উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মত ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত হয়। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, কোটা সংস্কার আন্দোলন-২০১৮ সালের নেতৃত্বদানকারী ও উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের মামলার ভুক্তভোগী হিসেবে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য উপরিউক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করছি।

নিবেদক,

মোঃ রাশেদ খাঁন,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী,
মামলার ভুক্তভোগী,
কোটা সংস্কার আন্দোলন-২০১৮ সালের নেতৃত্বদানকারী
এবং
সাধারণ সম্পাদক,
গণঅধিকার পরিষদ

সর্বশেষ নিউজ