হাতিরঝিল, ২২ নং ওয়ার্ড, পশ্চিম রামপুরা, বাগিচারটেক ৩ নং গলিতে আলেকুর রহমান রতন (১৭) কে ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম ও বাসায় ঢুকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী জানান, ৩০ এপ্রিল রাতে বাসা ভাড়া দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে বাগিচারটেক ৩ নং গলিতে আসলে ২০-২৫ জন আমাকে ঘিরে ধরে ওয়াপদা রোড মাছ বাজারের কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। টাকা ও মোবাইল নিয়ে আমাকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে আমার মা ও বড় ভাই আসলে তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে না পারায় আমার মা আসমা বেগম ও বড় ভাই ইমন (২২) কাছ থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়। ঢাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার শর্তে আমাকে ছেড়ে দেয়। আমার মা ও ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল নিয়ে চিকিৎসা করায়। দুই হাত ও পায়ে ১১টির সেলাই লাগে।
ভুক্তভোগীর মা আসমা বেগম বলেন,পাশের বাসার আপার কাজ থেকে জানতে পারি।বাগিচারটেক ওয়াপদা রোড মাছ বাজারের কাছে আমার ছেলেকে আটকে রেখে নির্যাতন করতেছে। খবর পেয়ে আমার বড় ছেলেকে নিয়ে দ্রুত গিয়ে দেখি ছোট ছেলে আলেকুর রহমান রতন এর দুই হাত ও পা থেকে রক্ত পড়তেছে। কুপিয়ে আহত করার কারণ জানতে চাইলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। দিতে না পারায় আমারও আমার বড় ছেলের কাছ থেকে খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর রাখে। ঘটনার পর ছেলেকে চিকিৎসা করিয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করতে যাই।
তিনি আরো বলেন,থানায় মামলা করতে যাওয়ার কারণে ৮ই মে (বৃহস্পতিবার) রাতে বাগিচারটেক ডাক্তার গলি ভাড়া বাসায় হেলমেট পরে ৪ জন ঢুকে রুমের ভিতর গুলি করে। আমার পুত্রবধূর কে হুমকি দেয় যদি থানায় কোন মামলা করার চেষ্টা করে তাহলে জীবনের জন্য শেষ করে দিব। যাওয়ার সময় বাসার সামনের গেটে আবারো গুলি করে চলে যায়। ঘটনার সময় আমরা বাসায় ছিলাম না। ৯৯৯ ফোন দিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুলির খোসা উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। গুলির ঘটনায় রাতে থানায় মামলা করি। মামলা নং-১৭
জানাযায়, ২২ নং ওয়ার্ড, পশ্চিম রামপুরা, বাগিচারটেক এলাকায় মাদক,চুরি,ছিনতাই,চাঁদাবাজি, গুলির ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রাকিবুল হাসান বাদশা ওরফে ছোট বাদশা গ্রুপ ও সুজন গ্রুপের মাঝে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যুবদল নেতা মিজান হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সুজন জেলে থাকায়। ছোট বাদশা গ্রুপ বাগিচারটেক এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক স্পোর্ট, নিয়ন্ত্রণ করে। এদের অত্যাচারে এলাকায় সিসি ক্যামেরা রাখা যায় না। সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে, তার কেটে দেয়, খুলে নিয়ে যায়। অস্ত্র থাকায় ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে চায় না।
হাতিরঝিল থানার ওসি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে

