জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভাজনের ফলে সাময়িকভাবে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তবে এতে কর—পরিবেশের কাঠামোগত উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘মে মাসের ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক’ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এনবিআর দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিলেও কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
প্রতিবেদনটি শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নতুন রাজস্ব কৌশল ও চ্যালেঞ্জ
এনবিআর ২০২৫—২৬ অর্থবছর থেকে ২০৩৪—৩৫ পর্যন্ত একটি মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব কৌশল (গখঞজঝ) চালু করেছে। এর লক্ষ্য হলো ওই সময়ের মধ্যে কর—জিডিপি অনুপাত ১০.৫ শতাংশে উন্নীত করা। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের আগে অতীতের ব্যর্থ সংস্কারগুলোর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়: বর্তমানে জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের কর আদায় অনুপাত উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড়ের তুলনায় অনেক কম।
২০২৫ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এনবিআরের রাজস্ব আহরণে খুব একটা অগ্রগতি নেই, মাত্র ২.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে : ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে। এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮.৬৩ শতাংশ (মার্চে ৮.৯৩%) সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৯.১৭ শতাংশ (মার্চে ৯.৩৫%) এর পেছনে সরকারের চাহিদা ও সরবরাহভিত্তিক কিছু পদক্ষেপ ভূমিকা রেখেছে।
এর মধ্যে রয়েছে:কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ (বাংলাদেশ ব্যাংক) চাল ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের শুল্ক হ্রাসঅনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষিপণ্য সরবরাহে স্বাভাবিকতাবাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, চলতি অর্থবছরের শেষে মূল্যস্ফীতি ৭—৮ শতাংশে নেমে আসবে।
বৈদেশিক খাত ও রেমিট্যান্স
এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩.০১ বিলিয়ন ডলার, যা বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৮৬ শতাংশ।রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে—৩৫ শতাংশ, যা রপ্তানি হ্রাসের নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সহায়ক হয়েছে। চলতি হিসাবের ঘাটতিও কমছে: ২০২৪ অর্থবছরে জিডিপির ১.৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে ০.৯ শতাংশে নামার পূর্বাভাস

